প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:যেদিকে চোখ যায়, শুধু ময়লা-আবর্জনার স্তুপ আর দুর্গন্ধ। পানি সরবরাহ বন্ধ। রাতের রাস্তাঘাট থমথমে অন্ধকার, ভুতুড়ে পরিবেশ। সব মিলিয়ে এক অচেনা শহরে পরিণত হয়েছে কিশোরগঞ্জ।

 

 

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার কর্মচারীরা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে গেছেন। কাজকর্ম বন্ধ করে ধর্মঘটে যাওয়ায় শহরের প্রতিদিনকার স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে নোংরা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, যাঁরা পৌরসভায় মাস্টার রোলে কাজ করেন, তাঁদেরও কাজ করতে দিচ্ছেন না কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কাজ করলে চাকরি থাকবে না।

 

 

সরেজমিন ঘুরে সবচেয়ে বাজে অবস্থা দেখা গেছে পুরান থানা, বড়বাজার, কাছারি বাজার ও বত্রিশ এলাকায়। সেখানকার বর্জ্য সব এনে রাখা হচ্ছে রাস্তায় এবং রাস্তার পাশে। এমনকি নরসুন্দা নদীতেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফেলা হচ্ছে শহরের ময়লা-আবর্জনা। শুধু তা-ই নয়, কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের মেডিক্যাল বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে শহরে।

 

 

এসব কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে পৌরবাসী। অবস্থা এমন যে সবাইকে নাক-মুখ চেপে রাস্তাঘাট দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আর শহরে যে কয়টি বাজার রয়েছে সেখানকার অবস্থা শোচনীয়। সব মিলিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে বসবাস করছে শহরবাসী।

 

 

কিশোরগঞ্জ উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ফাতেমা জহুরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরবাসীকে জিম্মি করে আন্দোলনের নামে যে নৈরাজ্য চলছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি দাওয়া থাকতে পারে; কিন্তু মানুষকে কষ্ট দিয়ে আন্দোলন অনৈতিক। কারণ পৌরসভা যে সেবাটুকু দেয়, তার জন্য পৌরবাসী টাকা দেয়।

 

 

এই সেবাটুকু কিনে নিচ্ছে তারা। কাজেই সেবা চালু রেখে তাদের আন্দোলন করা উচিত। অবস্থা এমন হয়েছে যে পৌরসভার বিরুদ্ধেও আন্দোলনে নামতে পারে ক্ষুব্ধ পৌরবাসী।’

 

 

পৌর নাগরিক ফজলে রাব্বী সোহান বলেন, ‘মানুষকে কষ্ট নিয়ে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যা করছেন এটাকে আন্দোলন বলা যায় না। এটাকে পৌরবাসীকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনা। আন্দোলন আমরা তাকেই বলি যেখানে মানুষের সমর্থন থাকে। মানুষকে দুর্দশায় ফেলে আন্দোলন-সংগ্রাম হয় না।’

 

 

কিশোরগঞ্জ পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রোকন বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকে ১৪ জুলাই থেকে দেশের সব পৌর কর্মচারীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূতিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।

 

 

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘আমি অসহায়। মানুষের ফোনে অতিষ্ঠ। বাসা থেকে বের হতে পারছি না। অবস্থা এমন যে একেবারে জরুরি সেবাগুলোও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সব উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্ধ। আমি একা তো এসব করতে পারব না।’

এই বিভাগের আরো খবর :

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক মন্ত্রীর কারাদণ্ড
ঢাকা-টোকিও আকাশ পথের বাধা ১৩ বছর পর কেটে যাচ্ছে
ফেনীতে ফের কন্যা নবজাতক উদ্ধার
বেপোরোয়া চলাফেরায় বাধা দেওয়ায় মাকে পিটিয়ে হত্যা
গ্যাটকো মামলার হাজিরায় আদালতে খালেদা
গাড়ি সুবিধা পাচ্ছেন ১২৮ অতিরিক্ত জেলা জজ
জেনে নিন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণ কী?
যুদ্ধাপরাধে নেত্রকোনার ৫ জনের রায় যেকোনো দিন
মানুষের ঢল সৈয়দ আশরাফকে দেখতে
দৈনিক লেনদেন ১০০ কোটি টাকা ছাড়াল “নগদ”
লোকসভায় পাস হচ্ছে নাগরিকত্ব বিল, আসাম সংকট বাড়বে
গৃহবধূকে ধর্ষণ সমুদ্র দেখানোর কথা বলে.....
কানাডার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ
প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে যুবক, গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন…
টস জিতলেন মাশরাফি; খুশি সাকিবও