প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: শান্তরাজা। প্রকৃতপক্ষে এটা কোনো রাজা-বাদশার নাম নয়। এটি একটি ষাঁড়গরুর নাম। গরুটি খুব শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় মালিক এই নাম রেখেছেন।

 

 

 

 

 

নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের টেংগা গ্রামের দুলাল মিয়ার বাড়িতে গেলেই দেখা মিলবে শান্তরাজার।৯ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা, ৬ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট ৩ বছর বয়সী বিশাল আকৃতির ষাঁড়গরু শান্তরাজাকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্তসহ আশপাশের কৌতূহলী লোকজন মালিক দুলাল মিয়ার বাড়িতে ভিড় করছে।

 

 

 

 

 

এদিকে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দুলাল মিয়া শান্তরাজাকে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর এজন্য শান্তরাজার যত্নও বেড়েছে বহুগুণ। শান্তরাজাকে প্রতিদিনই সাবান-শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়।৫০ মণ ওজনের শান্তরাজাকে ২৫ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রি করবেন বলে জানান মালিক দুলাল মিয়া। এরইমধ্যে অনেকেই দুলাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে ১৪-১৫ লাখ টাকায় শান্তরাজাকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

 

 

 

 

দুলাল মিয়া জানান, শান্তরাজা অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান প্রজাতির ষাঁড়গরু। তার কাছে এ জাতীয় একটি গাভী রয়েছে। ওই গাভীরই বাছুর শান্তরাজা।অন্যসব গরুর মতো দেশীয় খাবার খাওয়ানো হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, শান্তরাজাকে সাধারণত ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল, কুঁড়া, কলা, কাঁঠাল ইত্যাদি খাবার খাওয়ানো হয়। তবে দুলাল মিয়ার পাশাপাশি শান্তরাজাকে তার তিন ছেলে হাকিম মিয়া, হুমায়ূন মিয়া ও এলহারুন মিয়া মিলে লালনপালন করেন।

 

 

 

 

 

দুলাল মিয়ার ছেলে হাকিম জানান, শান্তরাজার লালনপালনে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। তারা গরুটি মেপে এর ওজন ৫০ মণেরও বেশি বলে জানিয়েছেন।নেত্রকোনার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. এনামুল হক বলেন, ‘দুলাল মিয়ার ষাঁড়গরুটির বিষয়ে আমরা সব সময় খোঁজ-খবর রাখছি। এটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু। যার ওজন ৫০ মণেরও বেশি।’