প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতি আবারও অবনতি হয়েছে। ধরলা নদীর পানি মঙ্গলবার বিপদসীমার ২০ সেমি. এবং ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১১ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুধকুমার নদীর পানি ১৭ সেমি. কমেছে। খবর ইউএনবি’র।

 

 

 

 

 

বন্যার কারণে সাড়ে ৯ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নেই বিশুদ্ধ পানি। অপ্রতুল ত্রাণ। বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট, বাঁধ, ঘরবাড়ি। নেই শৌচকর্ম সম্পন্ন করার মতো নিরাপদ ব্যবস্থা। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ বালাই।

 

 

 

 

ধরলা নদীতে নতুন করে পানি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সেই সাথে চলছে অবিরাম বৃষ্টি। বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো বৃষ্টির মাঝে চরম কষ্টে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর, কাশি সর্দিসহ নানা পানি বাহিত রোগ।এ অবস্থায় হাতে কাজ না থাকায় এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষজন।

 

 

 

 

 

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বন্যার ফলে ৩টি পৌরসভাসহ ৬০টি ইউনিয়নে ৮৯৪টি গ্রামের ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭২টি পরিবার পানিবন্দি। পরিবার প্রতি চারজন হিসাবে বানভাসী মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৮ জন।প্রায় ১০দিন ধরে এ মানুষগুলো বন্যায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর। বন্যায় এক হাজার ২৪৫ কিলোমিটার রাস্তা, ৪০ কি.মি বাঁধ ও ৪১টি ব্রিজ/কার্লভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নলকূপ ক্ষতিগস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪টি। প্রায় ২ লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দি। বন্যার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজ মিলে এক হাজার ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

 

 

 

 

 

নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার আবেদ আলী বলেন, ‘আমি দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাই। বন্যার কারণে আজ ১৩ দিন ধরে চারিদিকে পানি। কোথাও কাজ নাই। ঘরে খাবার নাই। ত্রাণের ১০ কেজি চালও শেষ হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছি।’

 

 

 

অন্যদিকে চিলমারী উপজেলা শহরে বাঁধ ভেঙে ঢুকে পড়া বন্যা পানি নেমে না যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার মানুষজন। চিলমারী থানাসহ থানার গেটের বাইরের সড়কে কোমর ও হাঁটু সমান পানি থাকায় উপজেলা শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কে চরম দুর্ভোগে যাতায়াত করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে হাঁটু সমান পানি থাকায় ব্যাহত হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমও।

 

 

 

 

 

 

পাকা ঘরবাড়িতে পানি জমে থাকায় গত ৫ দিন ধরে পানির মধ্যেই বসবাস করছেন সেখানকার অধিবাসীরা।জেলা প্রশাসন থেকে ৯ উপজেলার ৯ লক্ষাধিক বন্যা কবলিত মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত মাত্র ৮শ মেট্রিক টন চাল, ৭ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও সাড়ে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

এদিকে অকার্যকর স্লুইচ গেটের কারণেই দীর্ঘ বন্যার কবলে পড়েছে চিলমারীবাসীরা। পাত্রখাতা সরকারপাড়া এলাকায় মরা তিস্তা নদীর ওপর বন্যা নিয়ন্ত্রণ রক্ষা বাঁধে নির্মিত ১২টি পানি প্রবাহ পথ বিশিষ্ট এ স্লুইচ গেটটি কার্যকারিতা হারিয়ে উপজেলারবাসীর চরম এক দুভোর্গ হয়ে দেখা দিয়েছে।পানি প্রবাহ পথ অকেজ হওয়ায় চিলমারী উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা টানা ৬ দিন ধরে অথৈই পানির নিচে তলিয়ে আছে।

 

 

 

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এটি আমরাই দেখভাল করছি। পানি কমে গেলে স্লুইচ গেটটি মেরামত করা হবে। এ বাঁধে আর একটি স্লুইচ গেট নির্মাণের ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

এই বিভাগের আরো খবর :

ভোট বর্জন করলেন যারা
৩২ কোটি নেবেন বরুণ ধাওয়ান
অবিশ্বাস্য, পুরোই কাকতালীয়!
২০১৮ সালের হজ চুক্তি করতে সৌদি আরবে ধর্মমন্ত্রী
তাহিরপুর সীমান্তের ভারতীয় ২৫বোতল মদসহ নারী ব্যবসায়ী আটক
বিষক্রিয়ায় বিলুপ্ত হয়েছে ডাইনোসর!
নারীদের ২৬ বছর বয়সে বেশি উত্তেজনা থাকার কারণ!
ছাতকে মুক্তরিগাঁওয়ে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নয়ো হবে
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মুশফিকের টানা ৪ চারেই!
পেনিস মোটা বা লম্বা করার জন্য না জেনে ওষুধ সেবনের কুফল কি? জেনে নিন
জন্মদিনে নতুন লুক প্রকাশ আলিয়ার, চমকপ্রদ শুভেচ্ছাবার্তা করনের
তাদের লজ্জা নেই, শরম নেই: মির্জা ফখরুল
ইউরিন ইনফেকশন থেকে বাচার উপায়
আসন্ন রমজানে রংপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই
কুড়িগ্রামে শ্রমিক দিবস পালিত