প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুর প্রভাব খুব বেশি। তবে ডেঙ্গু বা অন্য কোনো জ্বর হলেই যে চিকিৎসকের কাছে ছুটতে হবে বা ওষুধ খেয়ে কমাতে হবে, ব্যাপারটি তা নয়। বেশির ভাগ জ্বরই ভাইরাসজনিত, যাতে কোনো ওষুধ লাগে না। এমনিতেই পাঁচ থেকে সাত দিন পর সেরে যায়। আবার বড়দের জ্বর হলে এক রকমভাবে তা মোকাবেলা করতে হবে, ছোটদের ক্ষেত্রে করতে হবে একটু অন্য রকমভাবে।

 

 

দেশের খ্যাতনামা ডাক্তার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ’র (সাবেক ডিন, মেডিসিন অনুষদ, সাবেক চেয়ারম্যান, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) কিছু টিপস এখানে তুলে ধরা হল:

 

 

বয়স্কদের ক্ষেত্রে

❏ জ্বর হওয়ার প্রথম তিন দিন শুধু সঠিক পরিমাণে প্যারাসিটামলজাতীয় ট্যাবলেট খান। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামলের পরিবর্তে এনএস এইড বা ব্যথানাশক ওষুধ যেমন—আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

 

 

❏ একেবারে প্রথম থেকেই শরীরে যেন তরলের জোগান ঠিক থাকে সে জন্য তেষ্টা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

 

 

❏ জ্বরের সময় বিশ্রাম নিলে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা কমে এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে বা জ্বর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ বিশ্রামে চলে যান। এই সময় কোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রম করবেন না বা শরীরের ওপর কোনো চাপ দেবেন না।

 

 

❏ যাঁরা ডায়াবেটিস, হার্ট, কিডনি, লিভার বা অন্য জটিল অসুখে ভুগছেন বা আগেও কখনো ডেঙ্গু হয়েছে, তাঁরা খুব সাবধানে থাকুন।

 

 

❏ রাতে এসির ব্যবহার কমিয়ে দিন। ঘর ঠাণ্ডা হওয়ার পর এসি বন্ধ করে ঘুমাতে যান।

 

 

❏ দাঁতের মাড়ি, মল বা মূত্রের মধ্য দিয়ে রক্তপাত হলে খুব সাবধান হোন। রোগীর প্লাটিলেট কাউন্ট কমে গেলেই তেমনটা হয় সাধারণত।

 

 

❏ কারো ডেঙ্গু হলে মশারি ব্যবহার করে রোগীকে আলাদা রাখুন। এতে অন্যরাও রক্ষা পাবে।

 

 

❏ যদি মনে হয় পরিস্থিতি ক্রমেই নাগালের বাইরে যাচ্ছে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন বা হাসপাতালের দ্বারস্থ হোন।

 

 

শিশুদের ক্ষেত্রে

❏ জ্বরের সময় পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দুধ পান করে এমন শিশুদের ঘন ঘন মায়ের দুধ চুষতে দিন। এ সময় দুগ্ধবতী মাকেও সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরা ও খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

 

 

❏ হালকা গরম পানিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে গোসল করাতে পারেন।

 

 

❏ শিশুর ওজন ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপ বা ট্যাবলেট খাওয়ান। ছোট শিশুকে সর্দি-কাশির সিরাপ, যাতে জ্বর কমানোর উপাদান আছে, তা সেবন করানো উচিত নয়। এতে জ্বরের ওষুধের ‘ওভার ডোজ’ হয়ে যেতে পারে।

 

 

❏ শিশুর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক (১৮ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখুন। জানালা খুলে রাখুন, যথেষ্ট বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। প্রয়োজনে ফ্যান ছেড়ে দিন।

 

 

❏ অতিরিক্ত কাপড়চোপড়, কাঁথা বা চাদরের প্রয়োজন নেই। বিশেষত, মাথা ঢেকে রাখবেন না, কারণ ছোট্ট শিশুদের তাপ মাথা থেকেই বেশি নির্গত হয়।

 

 

❏ জ্বরের সময় খেলাধুলা বা অত্যধিক পরিশ্রম পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর :

সপ্তাহে দর পতনের শীর্ষে ছিল যারা
ভাসমান সেতুর কারিগর কে এই রবিউল ইসলাম?
সোনারগাঁয়ে নিস্পাপ দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা চেষ্টা,পরকীয়া’র জের
৩০ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ
কোটা সংস্কার নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান চান শিক্ষার্থীরা
সাকিবের এশিয়া কাপ মিসের পক্ষে নন পাপন
টোলকর্মীকে ছেলের মারধরের নীরব দর্শক সাংসদ!‍
শূন্য ডিগ্রি তামপাত্রায় ৩০ ঘণ্টা, ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশু উদ্ধার
সেই বাবুল এখন কোথায় যে একসাথে ১৮ কেজি মাংস ও ১০০ ডিম খেতো!
জুমার নামাজে ইরাকের মসজিদে হামলা; নিহত ১০, আহত ৩০
জাতীয় জাদুঘরে সাংবাদিকদের সেতুমন্ত্রী মামলার রায় নিয়ে বিএনপি সহিংসতা করলে প্রতিহত করবে জনগণ
তোমার শরীর থেকে বাবা-বাবা একটা ঘ্রাণ আসত, খুব মিস করব সে ঘ্রাণ
সবচেয়ে কম বেতন পায় চা শ্রমিক
বিশ্ব গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িবহরে হামলা