প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: গুপ্তচর সন্দেহে পাকিস্তানে আটক ভারতীয় নাগরিক কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে ভারতীয় দূতকে একান্তে কথা বলতে দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ৩৭০ ধারা বাতিল ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সংঘাত তুঙ্গে ওঠার মুহূর্তে কুলভূষণ নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে ইমরান খানের সরকার।

আন্তর্জাতিক আদালতের সমালোচনার মুখে পড়ে বন্দি ভারতীয় কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে ভারতের দূতকে দেখা করতে দিতে রাজি হয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু দেশটির শর্ত ছিল, ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনো কর্মী যখন কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করবেন, সেখানে উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি। তবে সে শর্ত মানেনি ভারত। দিল্লির দাবি ছিল, ভারতের দূত যখন বন্দির সঙ্গে কথা বলবেন, তখন সেখানে তৃতীয় কেউ উপস্থিত থাকবে না। একান্তেই কুলভূষণের সঙ্গে কথা বলবেন ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তান।

ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের ভারত বিদ্বেষ বজায় রেখেছে পাকিস্তান।

১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত রায় দেন, ভারতীয় বন্দি কুলভূষণের সঙ্গে তাঁর দেশের দূতকে দেখা করতে না দিয়ে আন্তর্জাতিক বিধি ভঙ্গ করেছে পাকিস্তান। এরপর ইসলামাবাদ থেকে বলা হয়, একটি শর্তে ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনো কর্মী বন্দির সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। দেখা করার সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি।

ভারত পালটা দাবি জানায়, কুলভূষণের সঙ্গে ভারতের দূত যখন দেখা করবেন, তখন সেখানে ভয়ের পরিবেশ, নজরদারি থাকলে চলবে না। সাক্ষাৎকারের সময় কেউ যেন বাধা না দেন। কিন্তু ভারতের দাবি খারিজ করে দিয়েছে পাকিস্তান। ফলে ভারতের দূত কবে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন- সেই বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গোটা বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার অজয় বিসারিয়া। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের  পরিপ্রেক্ষিতে যেখানে অজয় বিসারিয়াকেই বহিষ্কার করে দিয়েছে পাক সরকার, সেখানে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দিল্লি থেকে আলাদা কোনো দূত বা কূটনীতিক যাবেন কিনা- তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানায়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই মুহূর্তে ৩৭০ ধারা ও কাশ্মীর নিয়ে তিক্ততা এতটাই চরমে যে কুলভূষণ ইস্যু কিছুটা আড়ালে চলে গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, একা সরাসরি পাকিস্তানের নজরদারির বাইরে এবং নিরাপদে ভারতীয় দূতকে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ভারত ফের আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবেদন জানাতে পারে। কারণ কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় দূতের কথা বলার সময় তৃতীয় কারো উপস্থিতি কিছুতেই মেনে নেবে না ভারত সরকার।

আইনবিদদের মতে, মামলার রায় দেওয়ার সময় ভারতীয় দূতকে নিঃসঙ্কোচে বিনা বাধায় কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে দিতে পাকিস্তানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক আদালত। কিন্তু সেখানে এটি স্পষ্ট করে বলা ছিল না, পাকিস্তানের কেউ উপস্থিত থাকতে পারেন কি-না। এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই পাকিস্তান নিজের লোক রাখতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের দাবি, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌসেনা কমান্ডার কুলভূষণ যাদব ‘হুসেন মুবারক প্যাটেল’ নামে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে পাকিস্তানে ঢুকেছিলেন নাশকতা চালাতে। ভারতের ‘র’-এর চর কুলভূষণকে বালুচিস্তান থেকে প্রমাণসহ গ্রেপ্তার করেছিলেন পাকিস্তানি  গোয়েন্দারা। তবে বরাবরই পাকিস্তানের এই দাবি অস্বীকার করে এসেছে ভারত।