প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:   নিজের দাদা ও বাবা ছিলেন অন্ধ। কিন্তু বাপ-দাদার মতো তাদেরকেও যে অন্ধ হয়ে দুনিয়ায় আসতে হবে তা হয়তো জানা ছিলো না কারো। শুধু তাই নয় নিজের ভবিষ্যত সন্তানাদিও দেখতে পাবেনা দুনিয়ার আলো সে কথা জানলে হয়তো বিয়েই করতেন না তারা।নিজেদের মতো তিন বোনের ভাগ্যও আজ জন্মান্ধ হওয়ায় জীবনের স্বাদ আহ্লাদ আর সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখতে পারেনি তারা।

 

 

 

 

বলছি বগুড়ার শিবগঞ্জের ময়দান হাটা ইউনিয়নের প্রত্যান্ত গ্রাম সোবাহানপুর পোড়া বাড়ি এলাকায় বাস করা জন্মান্ধ এক দুঃখি পরিবারের মানুষদের কথা।যে পরিবারের ১৭ জন সদস্যর মধ্য ১৪ জনই জন্মান্ধ।

 

 

 

 

পিতা আব্দুল জব্বার আলী ছিলেন অন্ধ। তার ঘর আলোকিত করে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে জন্ম নিলেও আলো ফোটেনি তাদের চোখে। বাবা আব্দুল জব্বারের মৃত্যুর পর মানুষের দুয়ারে সাহায্য চেয়ে চেয়ে বড় হয়েছেন শহিদুল, বুলু, টুলু, জহিলা, শহিদা ও মমেনা নামের ওই ছয় ভাই বোন।

 

 

 

 

তিন বোন কে বিয়ে দিয়ে নিজেরাও সন্তানের চোখে পৃথিবীকে দেখার আশায় করেছিলেন বিয়ে। কিন্তু জন্মান্ধ ও দুঃখি এই ছয় ভাই বোনের সে আশাও শেষমেশ আর পূরন হয়নি। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় তাদের সন্তানরাও জন্ম নেয় অন্ধ হয়ে। তিন বোনকে বিয়ে দিলেও পরে গর্ভের সন্তানরা অন্ধ হয়ে জন্ম নেয়ায় তাদের তালাক দিয়ে সন্তানদের ফেলে রেখে চলে যায় স্বামীরা। তাই বাধ্য হয়ে তিন ভাইয়ের সাথে একই অন্নে মানুষের করুনায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন এই অন্ধ পরিবার।

 

 

 

 

পরিবারের মেজো ভাই বুলু মিয়ার দুই মেয়ের মধ্য বুলবুলি নামের এক মেয়ে জন্ম নেয় অন্ধ হয়ে। বিয়ের পর বড় বোন জহিলারঘর আলোকিত করে জন্মনেয় রুমি,মীম ও জীম বাবু,মেঝো বোন শহিদার ঘরে শরীফ ও শ্যামলী ও ছোট বোন মমেনার ঘরে জন্ম নেয় মানিক ও রাজিয়া নামের দুই ফুট ফুটে সন্তান। কিন্তু জন্মান্ধ হওয়ায় এদের কেউই দুনিয়ার আলো দেখতে পায়নি।

 

 

 

 

গরীব ও অন্ধ সন্তান জন্ম দেয়ার কারনে তাদের তিন বোনের কপালে বেশি দিন জোটেনি স্বামীর সংসার। জন্মান্ধ ছোট ছোট বাচ্চাদের ফেলে রেখে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায় পাষান্ড স্বামীরা।

 

 

 

 

অবশেষে শিশু বাচ্চাদের নিয়ে অন্ধ ভাইদের সাথে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন চালাচ্ছেন তারা। পরিবারের বড় ছেলে জন্মান্ধ শহিদুল ইসলাম জানান,আমাদের কেউ কাজে নেয়না।দেখতে পাইনা বলে কোন কিছু করতেও পারিনা । তাই মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়াই।

 

 

 

 

আর এক ভাই বুলু মিয়া জানান,বাবার রেখে যাওয়া এই ছোট বাড়িতে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছেন তারা। এদিকে বোনেরাও জানালেন তাদের কষ্টের কথা। জানালেন ফুট ফুটে শিশু সন্তানদের রেখে তাদের স্বামীরা ঘটিয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ।এখন মানুষের দুয়ারে ঘুরে ঘুরে সাহায্যর টাকায় অতি কষ্টে জীবণ চালাতে হচ্ছে তাদের।

 

 

 

 

 

এই ১৪ জন জনম দুঃখি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মধ্য মাত্র দুই জন পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা। বারবার মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে ধরনা ধরেও আর কারও কপালে জোটেনি ভাতা কার্ড। তাই স্থায়ী সাহায্যর মাধ্যমে তাদের পাশে দাড়াবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা এই অন্ধ পরিবারের।