প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:      সারা বছর সীমিত পরিমাণে মাংস খেলেও কোরবানির ঈদ এলে অনেকের মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। আর কোরবানির ঈদে মাংস বলতেই থাকে গরু, ছাগল, খাসি অথবা উটের মাংস।

 

 

 

 

যেগুলো কিনা প্রাণীজ আমিষ বা রেড মিট। এই রেড মিটে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে যার কারণে অনেক ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে ।

 

 

 

 

 

বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল বা স্থূলতার সমস্যায় যারা ভুগছেন কিংবা এসব রোগের প্রাথমিক লক্ষণ আছে তাদের জন্য স্বাভাবিকের চাইতে বেশি রেড মিট খাওয়া বিপদের কারণ হতে পারে।তবে কিছু নিয়ম মেনে সেইসঙ্গে পরিমিত হারে রেড মিট খেলে এই আশঙ্কা প্রায় থাকেইনা বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ তাসনিম চৌধুরী।

 

 

 

 

 

অতিরিক্ত মাংস খেলে কি কি সমস্যা হতে পারে : গরুর মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ভিটামিন এবং মিনারেলস। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হাড়, দাঁত ও মাংসপেশীকে সুগঠিত করতে সাহায্য করে।

 

 

 

 

 

গরুর মাংস রক্তস্বল্পতা দূর করে সেইসঙ্গে শরীরে শক্তি সরবরাহ করে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে গরুর মাংসে এমন অনেক পুষ্টি থাকার পরেও অতিরিক্ত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

 

 

 

 

 

বিশেষ করে হজমে সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, পেট ব্যথা এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মিজ চৌধুরী। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন পাইলসে আক্রান্ত রোগীরা।

 

 

 

 

অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তনালিগুলোয় চর্বির পরিমান বেড়ে যায়। এতে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা কমে যাওয়ায় যে কারও রক্তচাপ বেড়ে যেতে যেতে পারে।যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, স্ট্রোক বা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস খাওয়ার ১১টি টিপস : স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস খাওয়া কিছু টিপস জানিয়েছেন চৌধুরী তাসনিম

 

 

 

 

১. আপনার শারীরিক পরিস্থিতি, বয়স এবং স্বাস্থ্য বুঝে মাংস পরিমিত হারে খেতে হবে। খাবারের পরিমাণের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ রাখাটা সবার জন্যই জরুরি। চেষ্টা করুন তিন বেলা মাংস না খাওয়ার। রাতে রেড মিট এড়িয়ে চলাই ভাল।

 

 

 

 

২. কোরবানির মাংস বাড়িতে আসার সাথে সাথে সেটা ভালভাবে ধুয়ে, রক্ত পরিষ্কার করে রান্না করতে হবে অথবা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মাংস বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। তবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব না হলে সঠিকভাবে মাংস জ্বাল দিয়ে রাখতে হবে এবং ছয় ঘণ্টা পরপর সেটা পুনরায় জ্বাল দিতে হবে।

 

 

 

 

 

৩. রান্নার আগেই মাংসের চর্বি কেটে আলাদা করে ফেলুন। এছাড়া মাংসের ভেতরে যে চর্বি আছে সেটা গলাতে গরম পানিতে মাংস সেদ্ধ করে নিতে পারেন।

 

 

 

 

 

৪. রান্নার সময় মাংসের টুকরোগুলো ছোট করে কাটলে সেইসঙ্গে মাংসটি টক দই, লেবুর রস, সিরকা, পেঁপে বাটা দিয়ে মেখে রাখলে একদিকে যেমন কম সময়ে মাংস সেদ্ধ হয়, তেমনি চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কাটানো যায়।৫. মাংস অল্প তেলে রান্না করতে হবে। তেলটি অলিভ অয়েল হলে সবচেয়ে ভাল।

 

 

 

 

৬. মাংস উচ্চতাপে ভালভাবে সেদ্ধ করে খেতে হবে। সবচেয়ে ভাল আগুনে ঝলসে খেতে পারলে। এতে জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকেনা। আধা সেদ্ধ মাংস বা স্টেক পরিহার করাই ভাল।

 

 

 

 

 

৭. একদিনে কয়েক পদের রেড মিট রান্না না করে মাংসের পাশাপাশি প্রতি বেলায় যথেষ্ট সবজি অথবা সালাদ রাখুন। কেননা সবজিতে থাকা ফাইবার মাংসের চর্বি হজমে সাহায্য করে।এছাড়া সবজি থাকার কারণে মাংস খাওয়ার পরিমাণও কিছুটা কমানো যায়।

 

 

 

 

৮. কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি, সরবত, ফলের রস, ইসবগুলের ভুষি ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চৌধুরী তাসনিম।

 

 

 

 

 

 

৯. গরুর মাংসের মগজ, কলিজা সেইসঙ্গে ঝোল বা স্টকে সবচেয়ে বেশি চর্বি থাকে, তাই খাওয়ার সময় সেগুলো পরিমিত খাওয়াই ভাল।১০. মাংসের তৈরি ভাজা আইটেমে তেল বেশি মনে হলে খাওয়ার আগে টিস্যুতে বাড়তি তেলটা শুষে নিতে পারেন।