প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:    কোরবানির ঈদে মাংস কাটা এবং বিতরণের পর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এতগুলো মাংস একসাথে সংরক্ষণের বিষয়টি। মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সেটাকে রেফ্রিজারেট করে রাখা সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলেও বিকল্প আরো নানা পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করা যায়।

 

 

 

 

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম জানিয়েছেন, মাংস উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।সেক্ষেত্রে ছয় ঘণ্টা পর পর মাংসটি জ্বাল দিতে হবে, নাহলে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এভাবে মাংস কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া ঢাকার কয়েকজন গৃহিণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মাংস সংরক্ষণের বিকল্প অন্যান্য পদ্ধতি।

 

 

 

 

 

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম মাংস রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করেন। এজন্য তিনি মাংসগুলো মাঝারি আকারে কেটে পরিষ্কার পানিতে ভালভাবে ধুয়ে নেন। এই মাংসের সাথে কোন অবস্থাতেই চর্বি রাখা যাবে না। এরপর মাংসের পানি নিংড়ে নিয়ে তাতে যথেষ্ট পরিমাণে লবণ ও হলুদ মাখিয়ে নেন, এবং ডুবো পানিতে সেই মাংস কিছুক্ষণ সেদ্ধ করেন মিসেস মাহমুদা। মাংস আধা সেদ্ধ হলে অর্থাৎ কাঁচা মাংসের গন্ধ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটা চুলা থেকে নামিয়ে তিনি পুরো পানি ছেঁকে ফেলেন। তারপর মাংসের টুকরোগুলো শিকে গেঁথে রোদে দিয়ে রাখেন। এভাবে মাংস শুকাতে একটানা চার থেকে সাত তিন সময় লাগে।

 

 

 

 

বাইরের ধুলোবালি থেকে মাংসগুলোকে বাঁচাতে পাতলা কাপড় পেঁচিয়ে দিতে পারেন। মাংসের সব পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে গেলে যেকোনো এয়ারটাইট কন্টেইনারে রাখতে হবে। শুকনা এই মাংসটি হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর স্বাভাবিক নিয়মে রান্না করা যাবে। ছাড়া সরাসরি তেলে ভেজেও খেতে পারবেন।

 

 

 

 

এভাবে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা নরমাল ফ্রিজে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে কন্টেইনারের গায়ে মাংস সংরক্ষণের তারিখটি লিখে রাখা ভালো। তবে বাইরে রোদ না থাকলে এ পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ কঠিন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে চুলার সাহায্যে মাংস শুকিয়ে নেয়া যেতে পারে।

 

 

 

 

 

এজন্য মাংসগুলো একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল দিয়ে পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। মিরপুরের বাসিন্দা শারমিন কাজী লেবু ও লবণের সাহায্যে মাংস সংরক্ষণ করেন।

 

 

 

 

এজন্য তিনি মাংসগুলো মাঝারি আকারে কেটে হালকাভাবে ছেঁচে নেন। এরপর লবণ ও লেবুর রসে ঘণ্টা-খানেক ডুবিয়ে রাখেন, যেন মাংসের ভেতরে ভেতরে সেটা পৌঁছায়। এভাবে মাংস কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো রাখা যায়।

 

 

 

 

 

এছাড়া মাংস ভেজেও তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করেন। এজন্য তিনি মাংস কেটে পরিষ্কার করে আদা বাটা, রসুন বাটা পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মাংসটি কিছুক্ষণ ম্যারিনেট করে রাখেন। এরপর গরম ডুবো তেলে মসলাসহ মাংসগুলো ভেজে নেন এবং তেল ছেঁকে নিয়ে তা সংরক্ষণ করেন। এর পর একদিন অন্তত অন্তত মাংসগুলো উচ্চতাপে গরম করতে হবে। এভাবে মাংস ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

 

 

 

 

 

এছাড়া মশলা ছাড়াই শুধুমাত্র ডুবো তেলে মাংস সেদ্ধ করে সংরক্ষণ করা যায়। এজন্য হাঁড়িতে যথেষ্ট পরিমাণে তেল গরম করে মাংস ডুবিয়ে পুরোপুরি সিদ্ধ করতে হবে। দু-এক দিন পর পর তেলে ডোবানো মাংস গরম করে নিতে হবে। এভাবে ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করা যায়।

 

 

 

 

 

এছাড়া লবণ, সোডিয়াম নাইট্রেট ও সোডিয়াম ল্যাকটেট দিয়ে মাংস পুরো একদিন মেরিনেট করে রাখলে সেটা ফ্রিজে ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই পদ্ধতিতে মাংসের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।