16 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: চারদিন সিলেট সফর শেষে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরেন পদ হারানো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। সিলেটে শোভনের সফরকালীন তাকে ঘিরে আয়োজনের কোনো কমতি রাখেনি স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

 

 

 

শোভনের আগমনে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় নগরের প্রত্যেক মোড়। সিলেট থেকে তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ওসমানী বিমানবন্দরের সব নিরাপত্তার জাল ভেদ করে বিমানেও উঠে পড়ার নজির সৃষ্টি করেছিলেন দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু পদ হারানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় সিলেট নগরী থেকে ওইসব ব্যানার-ফেস্টুন উধাও হয়ে যায়।

 

 

 

 

পদ হারাতেই শোভন-রাব্বানী এখন ‘ধুত্তরি ছাই’! সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগে তাদের নিয়ে নেই কোনো মাতামাতি। হয়তো এবার নতুন নেতার জয়গানে মুগ্ধ হবেন সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধমে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে তুলোধুনোও করছেন শোভন-রাব্বানীকে।

 

 

 

 

সৈয়দ রাসেল নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘পদ হারানোর এক ঘণ্টার মধ্যে সব ব্যানার-ফেস্টুন গায়েব। আজ থেকে হয়তো নগরজুড়ে দেখা যাবে নতুন মুখের কারো ব্যানার-ফেস্টুন। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে অদ্ভুত অদ্ভুত সব বিশেষণ! আসলেই কি আজব আমরা! কি নিমকহারাম!! রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিচ্ছি প্রতিনিয়ত। কিন্তু শিক্ষা নেন না রাজনীতিবিদরা!’

 

 

 

 

 

ফজলুর রহমান জসিম লিখেন, ‘ছাত্রলীগের তৃণমূল ভাইয়েরা প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাতে জানাতে তোমাদের প্রাণটা কি ঠিকমত আছে? নতুন নেতৃবৃন্দকে পা মাটিতে রেখে কাজ করার সুযোগ দাও। এমন তেল দিও না যাতে তারা বেসামাল হয়ে যায়। তোমাদের নেতা হওয়ার অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা, বাবার চেয়ে ভাই বড়, এমন এমন বিশেষণ তাদেরকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করে।’

 

 

 

 

মারুফ খান মুন্না লিখেন, ‘শোভনের জন্য সত্যিই দুঃখ লাগছে। সিন্ডিকেট ছাড়া এই প্রথম ছাত্রলীগের সভাপতি পেয়েছিল দলটি। সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে ঢাকসু নির্বাচনেও হারতে হয়েছিল তাকে। জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী লৌহ মানবী হাসিনার অনেক ভরসা ছিল তাকে দিয়ে। তবে তিনিও শেষপর্যন্ত বিতর্কমুক্ত থাকতে পারেননি।’

 

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলি-গলিতে শোভনের ছবি সম্বলিত পোস্টার সাঁটানো ছিল। ভবন, দেয়াল থেকে বিদ্যুতের খুঁটি কোনো কিছুতেই বাদ যায়নি পোস্টার সাঁটানো। সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এই পোস্টার সিটি করপোরেশনও খুলে নেয়নি।

 

 

 

 

কিন্তু পদ হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গায়েব হয়ে গেছে সাঁটানো পোস্টারগুলো। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওয়ালে পোস্ট করা শোভনের সঙ্গের ছবিগুলোও সরিয়ে নিচ্ছেন কর্মী-সমর্থকরা।