11 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:  মিতু আক্তার (ছদ্মনাম) নামের এক গৃহবধূর মোবাইলে বেশ কিছুদিন আগে ফোন করে এক প্রতারকচক্র। ফোনে ওই গৃহবধূকে জানানো হয়, তার সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে ভিডিও কনফারেন্সে নগ্ন হয়ে কল দিতে বলা হয়। মোবাইলে সন্তান অপহরণের কথা শুনে ওই গৃহবধূ তাদের কথামতো ইমোতে কল দেন।

 

 

 

 

 

এরপর ইমোতে বেশ কিছুক্ষণ ওই গৃহবধূকে ন গ্ন দেখে কল কেটে দেন প্রতারকরা। কিছুক্ষণ পর ওই গৃহবধূ জানতে পারেন, তার সন্তানের অপহরণের বিষয়টা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। এভাবেই ন গ্ন ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

 

 

 

 

 

প্রতারক চক্রের এমন দুজন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গ্রেপ্তার দুজন হলেন, মো. আলমগীর হোসেন (৩০) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫)।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এসব তথ্য জানান।

 

 

 

 

 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক চক্রের দুজন জানান, ধারণকৃত ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোবাইলে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় ভুক্তভোগিদের থেকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে প্রতারক চক্রের ওই দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

 

 

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারমিন জাহান জানান, এজেন্ট ও গ্রাহকের সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এমন অপরাধী চক্র। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই অপরাধীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডির একটি টিম প’র্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও পেনাল কোডের একটি মামলার সূত্র ধরে এমনই একটি চক্রকে শনাক্ত করতে পেরেছেন তারা।

 

 

 

 

 

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার দুই এজেন্ট, প্রতারক চক্রকে ভুয়া নাম ও ঠিকানায় মোবাইল ফাইন্যান্স হিসাব খুলে দিয়েছে এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার লেনদেন বইতে লিপিবদ্ধ না করে প্রতারক চক্রের কাছে লাখ লাখ টাকা বিলিয়ে দিয়েছে। এমন চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।