7 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:  রাজধানীর কাকরাইল মোডের ভুঁইয়া ম্যানশনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কার্যালয়। এই কার্যালয়ের ‘অঘোষিত সম্রাট’ যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। মূলত দলীয় কার্যালয় হলেও এটি মূলত সম্রাটের ডেরা হিসেবেই পরিচিত ছিল। বহুতল এ ভবনের কার্যালয়েই ছিল তার আড্ডা, যত অবৈধ কাজকর্ম।

 

 

 

 

সম্রাট এই কার্যালয়ে অবস্থানকালে কয়েশ’ নেতাকর্মী তাকে ঘিরে রাখত। তিনি এই কার্যালয় থেকে বের হলে তাকে প্রটোকল দিত অন্তত একশ’ নেতাকর্মী।সম্রাটের ডেরা ভুঁইয়া ম্যানশনের প্রবেশমুখে ব্যানার-পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ছবি সাঁটানো রয়েছে।

 

 

 

 

 

তবে প্রধান দুই পিলারে দলের প্রধান শেখ হাসিনার চেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

 

 

 

 

 

বাম পাশের পিলারে লম্বা আকারে বড় করে সাঁটানো সম্রাটের রাজনৈতিক গুরু যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের ছবি। আর ডান পাশের পিলারে সাঁটানো হয়েছে হারুনুর রশিদ ও সম্রাটের ছবি।এই ডেরার সামনে ব্যানার-পোস্টারে সম্রাটের বিশেষণে লেখা ‘যুব বন্ধু, যুবসমাজের নয়নের মণি, যুব সমাজের আইকন’ ইত্যাদি।

 

 

 

 

 

এছাড়া ওমর ফারুক চৌধুরী রচিত বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদও টাঙানো। তার কার্যালয়ের সামনে লেখা যুব জাগরণ (পাঠাগার, প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র), প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। এছাড়াও পুরো এলাকা জুড়ে ছাত্রলীগের সৌজন্যে সম্রাটের ব্যানার ফেস্টুন টাঙানো।

 

 

 

 

 

যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট ওমর ফারুক চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রভাবকে গুরুত্ব দিতেন ওমর ফারুক চৌধুরী। সম্রাটের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ইউনিটটিকে শ্রেষ্ঠ সংগঠন ও সম্রাটকে শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন ওমর ফারুক চৌধুরী। সম্রাটের কারণেই ভুঁইয়্যা ম্যানশনের কার্যালয়টি সব সময় জমজমাট থাকত। এই কার্যালয়ে বসেই ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্রাট। এই কার্যালয়ে প্রায়ই সম্রাটের সঙ্গে এসে বৈঠক করতেন তার ক্যাসিনো ব্যবসা দেখভাল করা মমিনুল হক সাঈদ ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

 

 

 

 

 

 

কিন্তু ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকেই সম্রাটের এই ডেরায় পিনপতন নীরবতা শুরু হয়। সম্রাট আত্মগোপনে গেলে তার সহযোগী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও আসা বন্ধ করে দেন।