13 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আপনারা (গণমাধ্যম) যাকে (সম্রাট) গডফাদার বলছেন তাকে তো গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান চলছে, চলবে। এটা কোনও দল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। যারা দুর্নীতি ও দূর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এটা সরকারের ইচ্ছা। সরকার সংকল্পবদ্ধ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে।’

 

 

 

 

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত ‘কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’- শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘যাদের যাদের আপনারা সন্দেহ করছেন তারাতো অ্যারেষ্ট হচ্ছে। আমাদের সরকারের অভিযান শুরু হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতির চক্র ভেঙ্গে দিতে না পারবো ততক্ষণ অভিযান চলবে।’

 

 

 

 

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বলেছেন ভারতের সঙ্গে অসংবিধানিক অগণতান্ত্রিক চুক্তি আড়াঁল করতে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের কথাবার্তা বিএনপির নেতিবাচক নোংরা রাজনীতি বহি:প্রকাশ। এই নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপি ক্রমেই সংকোচিত হচ্ছে। ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে।’

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাতটা সমঝোতা স্মারক হয়েছে। তিনটা প্রজেক্টের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। কোথায়? কোনটা অসাংবিধানিক? অগ্রণতান্ত্রিক কিছু আছে? এটা তথ্য প্রমাণসহ মির্জা ফখরুল সাহেব আপনাকে দেখাতে হবে। অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়বেন না। আগে বলতেন দেশ বিক্রি হয়ে গেছে। এখন বলছেন সংবিধান লংঘন হয়েছে। আগে বলতেন গোলামির চুক্তি হয়েছে। এখন বলছেন এই চুক্তি অসংবিধানিক। মেমোরেন্ডাম আন্ডারস্টেন্ডিং যে কোনও লিখিত চুক্তি নয়; দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থেকে এটাও আপনারা ভুলে গেছেন?’

 

 

 

 

 

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কারও সঙ্গে কোনও চুক্তি করেন না। দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই তিনি সমঝোতা ও চুক্তি করেন। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রাখেন।’

 

 

 

 

 

যে প্রধানমন্ত্রী (সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া) দিলি­ থেকে ফিরে এসে বলেন, “গঙ্গার পানি চুক্তির কথা মনে ছিল না’। শেখ হাসিনা কিন্তু সেই প্রধানমন্ত্রী নন। আজকে যতটা হয়েছে এতে আমরা লাভবান হচ্ছি। আমাদের জাতীয় সম্পদ ও অর্থনীতি উপকৃত হচ্ছে। ভারতের সেভেন সিস্টারে ট্রাকে করে আমাদের এখান থেকে এলপিজি যাবে, সেখানে বাংলাদেশের প্রচুর আর্থিক সুবিধা আমরা পাবো। আরেকটা বিষয় ভারত যদি আজ আমাদের মংলাবন্দর ব্যবহার করে, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে; এটা বিনা পয়সায় ব্যবহার করবে না। আমাদের আর্থিক সুবিধা দিয়েই তারা ব্যবহার করবে।”

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘পচাত্তর পরবর্তী সময়ে কেউই শত্র“তা করে ভারতের কাছ থেকে কিছুই আনতে পারেনি। আমরা শত্র“তা চাই না। শেখ হাসিনা বন্ধুত্বের পথে গিয়েছেন। গিয়েছেন বলেই ৬৮ বছরের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে। পৃথিবীর কোথাও ছিটমহল বিনিময় শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়নি। শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ন ভাবে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা পেয়েছি, আমাদের শর্ত অক্ষন্ন রেখেই বন্ধুত্ব সম্প্রসারিত হয়েছে। তিস্তা নিয়ে আলোচনা দ্বার বন্ধ ছিল; সেই আলোচনা হয়েছে, অগ্রগতি হয়েছে। গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি যিনি করেছেন তিনি তিস্তা চুক্তিতেও সফল হবেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”

 

 

 

 

এ সময় রংপুরের উপ-নির্বাচনে বিএনপির হারের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রংপুরের নির্বাচনে তাদের (বিএনপি নেতাদের) ভাব-সাব দেখে মনে হচ্ছিল বিশাল জয় পেয়ে যাবে। কিন্তু কত ভোট তারা পেয়েছেন? এত জনপ্রিয় দল, তারা নির্বাচনে অংশ নিল। আওয়ামী লীগ তো অংশ নেয়নি। এত জনপ্রিয় দল ভোটার উপস্থিতি এত কম হলো, মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব আপনি দয়া করে জাবাব দিবেন কি?’

 

 

 

 

কর্মশালাকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশে নীরবে ডিজিটাল বিপ্লব হচ্ছে। এর রূপকার সজিব ওয়াজেদ জয় ও ববি। যাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আমরা এ উদ্যোগ জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগিয়ে জয়লাভ করেছি। তবে আমাদের ডিজিটাল মিডিয়ায় খুব বেশি আসক্ত হয়া যাবে না। যেখানে সব নেতিবাচক কথা প্রচার হয় না, ইতিবাচক কিছু কথা আছে সেগুলো নিতে হবে, প্রচার করতে হবে।’

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বলেন, ‘সামনে জাতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনকে সামনে রেখে কোনও নেতাকর্মী যেন চরিত্র হননের খেলায় মেতে না ওঠেন; সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

 

 

 

 

 

সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা দুঃখজনক : শনিবার রাতে সাংবাদিকের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিক মোবারকের সঙ্গে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। তার বিয়ের অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম। এরপর আবার এ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনা শুনে আমার খারাপ লেগেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি এই বিষয়টি জানেন। আমি বিষয়টি তাদের সঙ্গে মনিটর করবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য সিংঙ্গাপুর গেছেন। তিনি ফিরে আসুক। আমি পুলিশের আইজির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। যাতে সম্মান জনক সুরাহ হয়।’

 

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি ড. হোসেন মোহাম্মদ মুনসুরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপ-কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম প্রিন্স, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েরর ভাইস চ্যান্সেলর মুনাব আহমেদ নুর, সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর প্রমুখ বক্তব্য দেন।