মোস্তফা ফিরোজ:   অনেক নাটকীয়তার পর গ্রেফতার হল ক্যাসিনো কিং ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। অবশ্যই ধন্যবাদ সরকারকে। এই কঠিন অ্যাকশনের প্রয়োজন ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যখন সম্রাটের চ্যালা-চমুন্ডাদের ধরা হচ্ছিল তখনই প্রশ্ন উঠছিল গডফাদারকে কেন ধরা হচ্ছে না। এতে সরকারের স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। ফলে দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে এটা নিয়ে নানা রকমের আলোচনা-সমালোচনা চলছিল।

 

 

 

 

বলা হচ্ছিল, সম্রাটকে গ্রেফতার এত সোজা না। কারণ, সম্রাটকেও প্রটেকশন দেয় মহাসম্রাটরা। তাদের নাম বেরিয়ে আসবে। মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিক, পুলিশ প্রশাসন, এমনকি মিডিয়ার লোকদের নাম প্রকাশ পাবে। তাই ছাড় পেতে পারে সম্রাট। বিশেষ করে সরকারি দলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নুর তাপস যখন ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কেন সম্রাটকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তখন দুটো বিষয় সামনে এল। এক, প্রধানমন্ত্রী সম্রাটকে গ্রেফতার করতে বলেছেন। দুই, সম্রাট অনেক পাওয়ারফুল। তাই গ্রেফতার হচ্ছে না।

 

 

 

 

 

এমন ধারণারও ভিত্তি আছে। ১৮ সেপ্টেম্বর যখন ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলে তখন সম্রাট শত শত যুবলীগ কর্মী নিয়ে কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশনে তার অফিসে অবস্থান নেন। তিনদিন পর্যন্ত থাকেন। যেন পাল্টা চ্যালেঞ্জ। পারলে আমাকে আটকের ক্ষমতা দেখাও। সম্রাটের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীও প্রবল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেন। বললেন, তারা আঙ্গুল চুষবেন না।

 

 

 

 

 

এ সব ঘটনায় সবার ভিতরে সন্দেহের দানাবাঁধে। তখন প্রধানমন্ত্রী আমেরিকায়। সবাই অপেক্ষা করতে থাকেন। তিনি ফিরলে এই কঠিন বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হবে। এরই মধ্যে তিনি দেশে এসে আবার দিল্লি গেলেন। তাপসের বক্তব্য শুনে বোঝা গেল সম্রাটের গ্রেফতারের বিষয়ে পিএম নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরও সন্দেহের দোলাচল। আসলেই কি সম্ভব হবে সম্রাটকে গ্রেফতার করা?

 

 

 

 

কিন্তু এই পর্যায়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল ১৮ দিন পর সম্রাটের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নানা বক্তব্যে ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, সম্রাট গ্রেফতার হতে পারে। তাদের নজরদারির ভিতরেই আছে।

 

 

 

 

 

এর দু’দিন আগে দুবাইয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী জিসানকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকার মতিঝিলপাড়ার আন্ডারওয়ার্ল্ড পরিচালনা করে এই জিসান বাহিনী। যুবলীগের সম্রাটও এই জিসান বাহিনীর সদস্য বলে প্রচার আছে। এ সব ঘটনা থেকে অনুমান করা যায়, জিসান ও সম্রাটকে আটকের মধ্য দিয়ে অন্ধকার জগতের অপরাধীদের সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে গেল। এখন জিসান সম্রাট যুগের অবসান হতে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন কারো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে না তো? সেই কমিটমেন্ট কি সরকারের আছে? প্রত্যাশা করব, আছে।লেখক: মোস্তফা ফিরোজ, হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

এই বিভাগের আরো খবর :

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
জামাই আদর না পেয়ে !
নেপালে ইউএস বাংলা বিমান বিধ্বস্ত: চীনা যাত্রীর মৃত্যু
প্রেমিকাসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেল যুবদল নেতা
নির্ধারিত তারিখেই তফসিল চায় যুক্তফ্রন্ট
১/১১-এর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি: ওবায়দুল কাদের
‘গ্রেনেড হামলার দায় যদি বিএনপি হয়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দায় সরকারের’
বৃদ্ধার মৃত্যু ভবনের ছাদ থেকে পড়ে
বিজেপি এবার ভয়ংকর হতে পারে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসা বাঙালিদের জন্য!
অক্সফাম কেলেংকারী: যৌন কর্মী ভাড়া করার স্বীকারোক্তি ডিরেক্টরের
ভাষা সৈনিক গাজী শহীদুল্লাহ আর নেই
আবহাওয়া অফিস যে সংবাদ দিল বৃষ্টিপাত নিয়ে
কামাল-সিনহা বৈঠক, তারেকের সঙ্গে হবে
মনট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নে সাফল্যের জন্য প্রশংসা সনদ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী