প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:   র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কাছ থেকে আরও অনেক ‘সাম্রাজ্যের খবর’ পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও জেএসডির (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। রোববার জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এক বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

 

 

 

আ স ম আবদুর রব বলেন, মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে। রাস্তায় নামার জন্য তারা তৈরি হয়ে আছে। সম্রাটের কাছ থেকে আরও বহু সাম্রাজ্যের খবর পাওয়া যাবে। টপ টু বটম বহু খবর পাওয়া যাবে। এই জুয়াড়ি সরকারের পদত্যাগ এবং একটি জাতীয় সরকার ছাড়া এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ক্যাসিনো সম্রাট আজ থেকে ১৫ দিন আগে রাজমণি সিনেমা হলের সামনে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে ছিলেন। ওখানে র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি পাহারা থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে ছদ্মবেশে পালিয়ে গেলেন? চৌদ্দগ্রামের সীমান্ত পর্যন্ত গেলেন, আমাদের বাহিনী কোথায় ছিল, প্রশ্ন রাখেন রব। সম্রাট কাকে কী কী দিয়েছেন, তা জাতির সামনে তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান আ স ম আব্দুর রব।

 

 

 

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এই শীর্ষ নেতা জানান, আগামী ১৩ অক্টোবর ফ্রন্টের এক বছর বর্ষপূর্তি পালন করবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করবে ঐক্যফ্রন্ট। সেই আলোচনা সভা থেকে জাতীয় সরকার গঠনের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হবে।

 

 

 

 

বৈঠকে জোটের বড় শরিক দল বিএনপির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফোনে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে, ২৮ সেপ্টেম্বরের জোটের বৈঠকেও বিএনপির প্রতিনিধি ছিলেন না।

 

 

 

 

এ বিষয়ে আ স ম রব বলেন, বৈঠকে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও মির্জা ফখরুলের পক্ষ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জোটের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত।

 

 

 

 

 

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এই ফ্রন্টের পাঁচটি শরিক দলের মধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এখন নেই। আগামী ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক বছর পূর্তি হবে।

 

 

 

 

 

এ প্রসঙ্গে আ স ম রব বলেন, ‘আগামী ১৩ অক্টোবর আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবো। ওই দিন বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. কামাল হোসেন। সেখান থেকে পরবর্তী করণীয় এবং এই জুয়াড়ি সরকার, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। মানুষ ক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ। তারা মাঠে নামার জন্য তৈরি।’

 

 

 

 

 

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিকল্প ধারার একাংশের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমীন বেপারী প্রমুখ।