11 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:   ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও ক্যাসিনো কাণ্ডে আলোচিত-সমালোচিত ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতারের পর থেকে রাজধানীর সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সম্রাট। জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের কৌতুহল কাজ করছে। সম্রাটের গ্রেফতারের খবরে তারা যেমন খুশি অনুভব করছে, তেমনি তার কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে।

 

 

 

 

রোববার (৬ অক্টোবর) ভোর ৫ টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

 

 

 

গ্রেফতারের খবর গণমাধ্যমে আসার ঘণ্টখানেকের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও ঢাকার পথে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে। রোববার দুপুর ২টার দিকে মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসডিপোর যাত্রী ছাউনিতে তিন চাকরিজীবী বন্ধু খোরশেদ, শাওন ও মিরাজ চা পান করতে করতে সম্রাটকে নিয়ে কথা বলছিলেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে শাওন বলেন, চিন্তা করতে পারেন, আমরা এতো কষ্ট করি, কিন্তু বেতন বাড়ে না কয়েক বছর ধরে, আর সে (সম্রাট) নাকি বিদেশে গিয়ে কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলে।

 

 

 

 

ফাঁক গলিয়ে মিরাজ বলেন, আচ্ছা বিদেশে গিয়ে না হয় জুয়া খেলত, মানলাম। কিন্তু এই টাকা সে (সম্রাট) কিভাবে উপার্জন করত? সব টাকা ছিল অবৈধ। চাঁদাবাজি, ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনা করেই সে জুয়ার টাকা উঠাতো। এই যে ঢাকায় ক্যাসিনো পরিচালনা করল সে, এতে তো দেশের অনেক মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়েছে, নিঃস্ব হয়েছে।

 

 

 

 

দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ধানমণ্ডি কেয়ারি প্লাজার সামনে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু শাকিল ও ফয়েজ সম্রাটকে নিয়ে কথা বলছিলেন। শাকিল বলেন, সম্রাট নিশ্চই একদিনের সৃষ্টি না। এতোদিন প্রশাসন কী করেছে? যাই হোক এখন না হয় ধরলো। কিন্তু আদৌ বিচার হবে?

 

 

 

 

এ কথার রেশে কথা শুরু করেন ফয়েজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বহু বড় বড় অপরাধীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে? কিছুই হয়নি। সম্রাটেরও যে কোনো বিচার-আচার হবে, সেটা বিশ্বাস করা কঠিন।

 

 

 

 

রোববার বিকালে মহাখালী বাসটার্মিনালে কথা হয় ময়মনসিংহগামী বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী, একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তখন থেকেই সম্রাটকে চিনতাম। তার সম্পর্কে অনেক খারাপ কথা শুনেছি। কিন্তু এতোটা খারাপ তা জানতামই না। যাই হোক, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সব ঠিক আছে? কিন্তু আদৌ কী তার বিচার হবে? বাংলাদেশে তো বিচারহীনতার একটি অপসংস্কৃতি চালু আছেই।

 

 

 

 

 

মতিঝিল ক্লাব পাড়াস্থ একটি হোটেলের কর্মকর্তা জুয়েল রানা। তিনি বলেন, তার বিচার হবে না। কারণ সে অনেক বড় নেতা, দলের পেছনে অনেক টাকা ভাঙছে। তার টাকা খেয়ে দলের অনেক বড় বড় নেতার পেট মোটা হয়েছে। বাংলাদেশে এসব কোনো ব্যাপারই না। কত বড় বড় অপরাধ হয়েছে। সেসব অপরাধের সাথে যুক্তরা চিহ্নিত হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু কই, কিছুই তো হলো না। সব পার পেয়ে যায় রাজনৈতিক দল, টাকা, ক্ষমতার জোরে।

 

 

 

 

 

তবে সম্রাট গ্রেফতারের খবর ও তার সব কু-কর্মের খবর ফাঁসের জন্য বেশ খুশি জুয়েল রানা। তিনি বলেন, এতোদিন তো মানুষ এসব জানতো না। এখন জেনে গেছে।