6 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:    দ্রুত সময়ের মধ্যে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবরারের বাবা-মা ও ভাই গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বলেন, দোষী যে দলেরই হোক না কেন তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

 

 

 

 

সোমবার বিকাল পাঁচটার কিছু আগে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া বেগম এবং ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান। এখানে আবরারের মায়ের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। তারা প্রায় ঘণ্টাখানেক গণভবনে ছিলেন।

 

 

 

 

 

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, গণভবনে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ‘আপনি মায়ের আসনে থেকে ঘটনার পর যে ভূমিকা নিয়েছেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।

 

 

 

 

 

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনার সাঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি দেখতে চাইনি কে কার লোক। অপরাধী কে বা কোন দল করে সেটা বিবেচনা করিনি।’ ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

 

 

 

 

শিক্ষার্থীরা ফুটেজ সংগ্রহে কেন বাধা দিয়েছিল সেটা বোধগম্য নয় বলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন বলে জানান প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রী আবরারের মাকে বলেন, ‘আপনাকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। শুধু বলব, আমাকে দেখেন, স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। আমিও এক রাতে সব হারিয়েছিলাম। আমি তখন বিচারও পাইনি।’

 

 

 

 

 

আবারারকে হত্যাকারীরা অমানুষ হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। আবরারের মা রোকেয়া খাতুন, বাবা বরকত উল্লাহ প্রশাসন, পুলিশ ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

 

 

 

 

আবরারের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

গণভবন থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে আবরার হত্যার বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, ‘আমিও তো বাবা-মাসহ সবাইকে একদিনে হারিয়েছি। স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি।’

 

 

 

 

 

বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর নির্যাতনে ৬ অক্টোবর প্রাণ হারান তড়িৎকৌশল বিভাগের ছাত্র আবরার। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। ছাত্রলীগ ইতিমধ্যে ১১ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।