প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:  রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ছাত্রদলের বিবাহিত নেতাকর্মিরা। নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখার দাবিতে আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।

 

 

 

 

 

গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে ওই কাউন্সিলে দুই গুরুত্বপূর্ণ শর্তের একটি ছিল নির্বাচনে বিবাহিতরা প্রার্থী হতে পারবেন না। অন্যটি ছিল প্রার্থীরা কাস্টিং ভোটের ১০ শতাংশ না পেলে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাবেন না তাঁরা। নির্বাচনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করলেও মাত্র ছয়জন ১০ শতাংশের বেশি ভোট পান।

 

 

 

 

ছাত্রদলের একাধিক বিবাহিত নেতা দাবি করে, ছাত্রদলের কাউন্সিলে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবাহিতরা প্রার্থী হতে পারবেন না বলে শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে তখন কোনো শর্ত দেয়া হয়নি। এখন দুই সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি যখন পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে, তখন এই ইস্যুটি সামনে আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা ছাত্রদলের কাউন্সিলে দায়িত্বপালনকারী সংগঠনটির সাবেক নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো সমাধান দিতে পারেননি। তারা (সাবেক নেতারা) আমাদের বলেছেন, ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনার ওই কমিটি পরবর্তীতে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ডাকলে তখন বিষয়টি তাকে বলবেন।

 

 

 

 

অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাঁদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। তাঁরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও তাঁদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। তাঁরা দুজনই এ ব্যাপারে নেতিবাচক। তাঁরা (খোকন-শ্যামল) বলেছেন, লন্ডনে কথা বলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে রাজি করাতে পারলে বিষয়টিতে তাঁদের কোনো আপত্তি থাকবে না।

 

 

 

 

 

এর আগে গত ৩ জুন রাজীব-আকরামের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে বয়সসীমা নির্ধারণ করে কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এর প্রতিবাদে অতীতের ধারাবাহিকতায় বয়স্কদের দিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে আন্দোলনে শুরু করেন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মি। ওই ঘটনায় ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয় যা এখনো কার্যকর রয়েছে।