10 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:  শুধু জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় সাকিব আল হাসানকে প্রাথমিকভাবে দুই বছর সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। দায় স্বীকার করে নেয়ায় এক বছর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে তার।ম্যাচ পাতাননি, জুয়াড়ির কাছ থেকে এক পয়সাও নেননি সাকিব, এর পরও আইসিসি থেকে বড় শাস্তি পেলেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, সাকিবকে ফাঁসানো সেই জুয়াড়ির নাম। তার নাম দীপক আগারওয়াল।কে এই দীপক আগারওয়াল? সাকিবের সঙ্গে তার যোগাযোগ হলো কীভাবে? সে প্রশ্ন জানতে উৎসুক এখন দেশবাসী।

 

 

 

 

আগারওয়াল ভারতীয় নাগরিক। তার আসল নাম বিক্রম আগারওয়াল। সাকিবের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন নাম্বারটি পান দীপক। এর পর হোয়াটসঅ্যাপে বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এ ইন্ডিয়ান জুয়াড়ি।এ খবর জানার পর এই ভারতীয় জুয়াড়ির কুকীর্তির বিষয়ে আরও একটি তথ্য জানা গেছে।দীপক আগারওয়াল শুধু সাকিব ইস্যুতেই নয়, তার কারণে আত্মহত্যা করেছেন আরেক ভারতীয় জুয়াড়ি!ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে সেই ঘটনাটি।

 

 

 

 

 

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর, বেশ কয়েক বছর আগে ২৯ বছর বয়সী বিজয় কুমার নামে এক জুয়াড়ি রাজস্থানের উদয়পুরে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছিলেন।আর তার মরদেহের পাশে পড়েছিল একটি ‘সুইসাইড নোট’। ওই নোটে লেখা ছিল, তার এই আত্মহত্যার জন্য দীপক আগারওয়াল দায়ী।

 

 

 

 

 

ওই ঘটনার পর টাইমস অব ইন্ডিয়াকে উদয়পুর সিটির অতিরিক্ত এসপি তেজরাজ সিং জানিয়েছিলেন, বিজয়কে জোর করে ৫ লাখ টাকা বাজি ধরতে বাধ্য করেছিলেন দীপক। বাজিতে বিজয় হেরেছিল না জিতেছিল তা না জানা গেলেও টাকাটা দীপকের কাছে রয়ে যায় তা নিশ্চিত। এতে পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন বিজয়। এ ঘটনার পর থেকে বিজয়ের মধ্যে হতাশা কাজ করত। একসময় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

 

 

 

 

 

তবে আত্মহত্যার আগে এর জন্য দীপক আগারওয়াল দায়ী এবং দীপকের কাছ থেকে ওই পাঁচ লাখ টাকা ফেরত এনে যেন তার পরিবারকে দেয়া হয় বলে অনুরোধ করে সুইসাইড নোটে লিখে যান বিজয়।তবে বিজয়ের এমন সুইসাইড নোটের পরও রহস্যময় কারণে পার পেয়ে যান দীপক। ওই ঘটনার পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।

 

 

 

 

এরই মধ্যে খেলা নিয়ে বাজি ধরতে গিয়ে পুলিশের হাতে বেশ কয়েকবার ধরা পড়েন দীপক আগারওয়াল।সবশেষ ২০১৭ সালের এপ্রিলে ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার সন্দেহে দুই সঙ্গীসহ আগারওয়ালকে আটক করে পুলিশ।কিন্তু সেখান থেকেও রহস্যময় কারণে ফের পার পেয়ে যান তিনি। যদিও পুলিশের ভাষ্য, দীপককে আটক করা হলেও পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না মেলায় কিছু দিন পরই তাকে ছেড়ে দিতে হয়।

 

 

 

 

 

 

আর ছাড়া পাওয়ার পরই নতুন ফন্দি আঁটেন দীপক। যোগাযোগ করেন সাকিবের সঙ্গে।মঙ্গলবার সাকিবকে নিষিদ্ধ করার সঙ্গে এক বিবৃতিতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে আইসিসি।সেখানে বলা হয়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রথম সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আগারওয়াল। সাকিবের ঘনিষ্ঠ কারও কাছ থেকে নম্বর পেয়েছিলেন এই জুয়াড়ি।