প্রথমবার্তা, রিপোর্ট: ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুন:তফসিল করতে আরো তিন মাস সময় পেল ঋণ খেলাপিরা। ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার নিয়ে রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দিয়েছেন আদালত।রোববার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

 

 

 

রায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার অবৈধ ঘোষণা না করে তার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন আদালত।এ সময় রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাংলাদেশের ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান, আর ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-বিএবি’র পক্ষে ছিলেন শাহ মঞ্জুরুল হক।

 

 

 

 

 

পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কোর্ট আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন সেই রকম নয়জন ব্যক্তিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠনের। সেই কমিটি সরকারি বেসরকারি সকল ব্যাংকের যে দুর্বলতা, বিশেষ করে ঋণ পরিশোধ, ঋণ অনুমোদন এবং সংগ্রহে অনিয়মসহ সব বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করবেন। সেখানে তারা এগুলো তৈরি করে কি কি উপায়ে এগুলো দুর করা যায় , এ দুরাবস্থাগুলো দুর করা যায় এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তারা প্রতিবেদন দিবেন। আদালত বলেছেন যে প্রতিবেদন দেবেন বাংলাদেশ তা কার্যকর করবেন।

 

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুন:তফসিলের বিষয়ে আদালত আদেশ দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১২ সালের ‘মাস্টার সার্কুলার অন লোন রিশিডিউলিং’ সংক্রান্ত সার্কুলার-যেটাতে বলা আছে কেউ যদি ঋণ পুন:তফসিলের সুযোগ গ্রহণ করে পরবর্তীকালে সে যদি ঋণ নিতে যায় তার কাছে যে ঋণ পাবে তার ১৫ শতাংশ অর্থ দিতে হবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে এবং সিআইবিতে তার নাম পাঠাতে হবে।

 

 

 

 

 

 

ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের পক্ষের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটা কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটির কাজ হচ্ছে- ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম কেন হয়েছে সেটি তদন্ত করে দেখে রিপোর্ট দাখিল করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলার দিয়েছিলেন সেটি অবৈধ হয়নি বরং আরও তিন মাস সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন ওই সার্কুলারের মেয়াদ। দুই শতাংশ জমা দিয়ে পরবর্তী লোন নিতে পারবেন।

 

 

 

 

 

তবে পরবর্তী লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যা মাষ্টার সার্কুলারে উল্লেখ আছে, সেই বিধি বিধান যেন মান্য করা হয়।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে আমাদের মনে হয় না ব্যাংকিং খাতে কোনো সমস্যা আছে। এরফলে বরং ব্যাংকিং সেক্টর আরও ভালো হবে।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময়েই বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিটির পরামর্শ নিয়ে কাজ করে থাকে। এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, আজকে আদালত যে কমিটি গঠন করতে বলেছেন, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের কাজের কোনো হেরফের হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সফলভাবে কাজ করতে পারবে।

 

 

 

 

 

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের আবেদনে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২১ মে ওই সার্কুলারের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছিলেন।এরপর অর্থ বিভাগের আবেদনে গত ৮ জুলাই আপিল বিভাগ ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য স্থগিত করে।

 

 

 

 

 

আদেশে আপিল বিভাগ বলে দেয়, কোনো ব্যবসায়ী এই সুবিধা নিলে দুই মাসের মধ্যে তিনি আর অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন না। সেই সঙ্গে হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছিল, তা নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চকে দায়িত্ব দেয় আপিল বিভাগ।

 

 

 

 

রাযের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, অর্থ হচ্ছে অর্থনীতির রক্ত। এর সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকা দরকার। মানবদেহে হ্রৎপিন্ড যেমন রক্ত সঞ্চালন করে তেমনি অর্থনীতিতে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যম ব্যাংক।

 

 

 

 

 

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয় দেশে কয়েকটি আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে। এর মধ্যে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি উল্লেখযোগ্য। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রনালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন আর্থিক অনিয়ম রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে।