8 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:  আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে রাজধানী ঢাকায় সাত গুণ বেশি গাড়ি নিবন্ধন করা হয়েছে। বিআরটিএর সর্বশেষ পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১০ বছরে গাড়ি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলই ৬৫ শতাংশ।

 

 

 

 

 

যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে সড়কে শৃঙ্খলা রাখতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। চীন ও সিঙ্গাপুরে লটারি পদ্ধতিতে গাড়ি কেনার নীতি রয়েছে। যুক্তরাজ্যে গাড়ির পার্কিং কর বাড়ানো হয়েছে আগে থেকেই। ভারতের দিল্লিতে নম্বরের জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ চালু করা হয়েছে।

 

 

 

 

আর ঢাকায় ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ উপেক্ষা করে বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে তার নিবন্ধন দিয়েছে। এতে ঢাকা হয়ে উঠেছে বিশৃঙ্খলার রাজধানী। অবস্থা এমন যে অভিযান, মামলা চালিয়েও কুলাতে পারছে না পুলিশ বা বিআরটিএ। পজ মেশিন ও ভিডিও চিত্র ধারণ করে মামলা করে পুলিশও ক্লান্ত। তবে নতুন সড়ক পরিবহন আইনে গাড়ি নিবন্ধনে নিয়ন্ত্রণ টানার সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (রাস্তার তুলনায় গাড়ি চলার হার) ঢাকায় সর্বোচ্চ দুই লাখ ১৬ হাজার গাড়ি চলতে পারে। অথচ বিআরটিএতে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৩টি। অথচ ২০১১ সাল পর্যন্ত গাড়ি নিবন্ধিত ছিল সাত লাখ দুই হাজার ৯৪৭টি। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসের নিবন্ধন চিত্র দেখে জানা গেছে, ঢাকায় দিনে গাড়ি নামছে ৪৫০টি। অথচ দুই বছর আগেও দিনে নিবন্ধিত হতো ৩০৩টি গাড়ি।

 

 

 

 

 

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘আমরা বিআরটিএর কাছে ঢাকায় আর মোটরসাইকেল নিবন্ধন না দেওয়ার প্রস্তাব করেছি দুই মাস আগে।’ ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজউদ্দিন আহম্মদ বলেন, বিশৃঙ্খলা কমাতে হলে ছোট গাড়ির নিবন্ধন কমিয়ে আনতেই হবে। আর বড় গাড়ি বাড়াতে হবে। বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। আমার ওপর বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে পারেন।’

 

 

 

 

 

ঢাকার আরটিসি সূত্র জানায়, এসি বাস ছাড়া কোনো ছোট গাড়ির রুট পারমিট দেওয়া হবে না ঢাকায়। কম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল পদ্ধতি চালু হলে ছোট গাড়ি নিরুৎসাহ হবে। তবে তা হতে আরো দুই বছর লেগে যাবে।

 

 

 

 

 

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সরকার বা সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে সমগ্র বাংলাদেশ বা যেকোনো এলাকার জন্য যেকোনো ধরনের মোটরযানের সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারবে। কোনো এলাকায় মোটরযানের সংখ্যা নির্ধারিত সংখ্যার বেশি হলে অতিরিক্ত মোটরযান অন্যত্র চলাচলের অনুমতি দেওয়া যাবে। আইনের এ বিধান অনুসরণ করার ওপর জোর দিয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, কত গাড়ি চলাচল করে, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে বের করে কোন এলাকায় কত গাড়ি চলবে, তা নির্ধারণ করা দরকার। এতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবে।

 

 

 

 

গবেষক সন্তোষ কুমার রায় বলেন, ফ্লাইওভার, ইউ লুপ করেও যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমানো যাবে না গাড়ি না কমালে। বড় গাড়ির ওপরও নির্ভরতা কমাতে হবে। দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রো রেল ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট চালু করতে হবে।

 

 

 

 

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণায় বলা হয়েছে, গাড়িসংখ্যা বেড়ে যাওয়া, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও নির্ধারিত বাস স্টপেজের ব্যবহার না হওয়ায় রাজধানীতে যানজট প্রকট রূপ নিয়েছে। যানজটের বড় কারণ ব্যক্তিগত গাড়ি নিরুৎসাহ না করা।

 

 

 

 

শুধু প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়েই গত ১ নভেম্বর থেকে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করা হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি না থাকায় পুলিশের সার্জেন্ট, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সংস্থার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নতুন আইনের আওতায় মামলা করছেন না। কাগজপত্রে কার্যকর হওয়ার সাত দিন পর নতুন আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

 

 

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সোমবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জরিমানা নিয়ে অনেকে আতঙ্কিত। তবে জরিমানা আদায় নয়, সড়কে আইন মেনে চলার জন্যই নতুন আইন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘নতুন আইন সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে। আমাদের প্রস্তুতিরও দরকার আছে। এ প্রস্তুতির পর শিগগিরই মাঠ পর্যায়ে নতুন আইন কার্যকর করা হবে।’ বিআরটিএ সূত্র জানায়, ঢাকায় বিআরটিএর আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চট্টগ্রামে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালাবে।

 

 

 

 

 

 

এদিকে পুরনো আইনের চেয়ে নতুন আইনে জরিমানা বেশি হওয়ায় তা থেকে রেহাই পেতে গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র বা লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদ পেতে বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যালয়ে গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে। গতকাল বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে গেলে সকাল থেকেই এ ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে বিআরটিএ থেকে জরুরি ছাড়া কোনো লাইসেন্স সরবরাহ করা হচ্ছে না। বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, ‘এখন নিবন্ধন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্লিপের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আমাদের কাছে গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে।’

 

 

 

 

 

 

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় তিন লাখ চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। এর মধ্যে স্লিপ নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন দেড় লাখ চালক। নতুন আইনে লাইসেন্স না থাকলে ছয় মাসের জেল বা অনধিক ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। সূত্র জানায়, দেশে ফিটনেসহীন গাড়ি আছে সাড়ে তিন লাখ। ফিটনেস সনদ না থাকলে ছয় মাসের জেল বা অনধিক ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এ শাস্তি এড়াতে গ্রাহকরা ভিড় করতে শুরু করেছেন বিআরটিএতে।