6 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট: ঋণখেলাপিদের কাউকে জেলে না পাঠিয়ে টাকা আদায় করতেই ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।বুধবার (৬ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

গত ৩ নভেম্বর দুই শতাংশ অর্থ আগাম পরিশোধ সাপেক্ষে খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারকে বৈধ ঘোষণা করে তার মেয়াদ ৯০ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এসব ঋণখেলাপিকে নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০১২ সালের মাস্টার সার্কুলার অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

 

 

 

 

রায়ের কপি হাতে পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২ শতাংশ কোনো বিষয় না। ২ শতাংশ শর্ত মেনেই তারা ঐক্যমত পোষণ করবে যে তারা আমাদের সঙ্গে আছে। তারা এ শর্ত বাস্তবায়ন করার জন্য এগিয়ে আসবে।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ক্ষেত্রে একটি কাজ করতে চাচ্ছি সেটা হলো কাউকে জেলে না পাঠিয়ে টাকা আদায় করতে। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে তাদের সকলকে টাকা দিতে হবে। যেভাবেই হোক এ টাকা আমরা আদায় করবই। এটা রাষ্ট্রের সকল মানুষের টাকা। তবে আমরা সময়টা একটু বাড়িয়ে দিয়েছি।’

 

 

 

 

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ায় ভালো-মন্দ এক হয়ে যাচ্ছে, অনেকে ধারণা করলেও তা সঠিক নয়। ভালো-মন্দ কখনও এক হবে না। যারা ভালো তাদের কোনো এক্সট্রা ডিপোজিট বা ঋণ লাগবে না।’

 

 

 

 

‘রায়টি যখন আসবে তখন আমরা কার্যকর করবো। আগে রায় আসুক। রায়ের আগে কিছু বলা ঠিক হবে না। দেশে ব্যবসা বাণিজ্য বান্ধব আইন আমরা করতে যাচ্ছি। এখানে অনেক ইস্যু রয়েছে তা একসঙ্গে করে ব্যাংকিং খাতটাকে দাঁড় করানোটাই হলো আমাদের উদ্দেশ্যে।’

 

 

 

 

 

ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ এর ওপরে যাবে না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ৯ দশমিক ৭৫ হবে, অর্থাৎ সিঙ্গেল ডিজিট হবে। যাই হোক আমরা ব্যাংক ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ আদায় করবো। এটা বাস্তবায়নে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে ব্যাংক, ঋণ গৃহীতা, সরকার ও দেশের মানুষ যেন না ঠকে। সে কাজ করতে হলে একটি বিরাট কর্মযজ্ঞ সবাইকে সম্পৃক্ত করে এ কাজটি করতে হবে।’

 

 

 

 

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হলো গতবছরই তারা (বেসরকারি ব্যাংক) ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা বলেছিল। এজন্য তারা সরকারের কাছে কিছু শর্ত দিয়েছিল, সরকার তা পূরণ করেছে। এরমধ্যে অনেকেই সিঙ্গেল ডিজিটে আসছে। আবার কেউ কেউ আসেনি।’

 

 

 

 

 

 

‘যারা আসেনি তাদেরকে আসতে হবে, না হলে তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান। তারা ব্যবসা করলে লাভ করবে কেউ কম কেউ বেশি করবে। কিন্তু রেইট সকলের এক হতে হবে’ বলেন মুস্তফা কামাল।