প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:    হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায়ের দিন দুই জঙ্গির মাথায় কথিত ‘আইএস টুপি’ ছিল কেবল হাজতখানা থেকে এজলাসে যাওয়া এবং সেখান থেকে বের হয়ে প্রিজন ভ্যানে উঠা পর্যন্ত।

 

 

 

 

 

কারাগার ও আদালত এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। কারাগার থেকে টুপি সরবরাহ করা হয়নি বলে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে। আবার আদালত থেকে টুপি সরবরাহের কোনো প্রমাণ পাননি পুলিশের তদন্তকারীরা। তবে নিরাপত্তার দুর্বলতার দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, টুপি মাথায় চাপানো এবং তা পরে বের হওয়ার সময় জঙ্গি আসামিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী ও পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।

 

 

 

 

 

সংবাদকর্মীরা বলার পর বিষয়টি সিনিয়র কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এমনকি এজলাসে যাওয়া ও বের হওয়ার পর আইনজীবীর পোশাকে আসামিদের কাছাকাছি চলে যায় কয়েক ব্যক্তি।

 

 

 

 

 

এদের একজন লিফটে আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের সঙ্গেই নামেন। এদের মধ্যে রুহুল আমীন খান রুবেল নামের এক ভুয়া আইনজীবীও ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিরা দাবি করেছে, তারা কারাগার থেকে সেই টুপি পায় এবং কারাগারে ফেরার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে তা ফেলে দেয়।

 

 

 

 

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আদালতে জঙ্গিদের কাছে গিয়ে কেউ টুপি দিয়ে আসার বিষয়টি কঠিন। সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদেরও সাক্ষাৎকার নিয়েছে তদন্ত কমিটি।’

 

 

 

 

 

আরেকটি সূত্র জানায়, নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি না থাকলেও আসামিদের কাছে বা প্রথম স্তরে যারা ছিল তারা ওই বিশেষ টুপি সম্পর্কে জানতই না। এটি একটি দুর্বলতা। আবার কিছু স্থানে আইনজীবী পরিচয়ে লোকজন আসামিদের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।

 

 

 

 

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েকজনের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অনেক সাংবাদিকের ক্যামেরার ছবিতেও জঙ্গিদের চলাচল ধরা পড়েছে। সেগুলোও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, কিন্তু এসবে টুপি হস্তান্তরের দৃশ্য আসেনি।

 

 

 

 

সূত্র জানায়, আদালতের ফুটেজ খতিয়ে দেখে আসামিদের কাছাকাছি আইনজীবীদের চলাচল সন্দেহজনক বিবেচনা করা হচ্ছে। জঙ্গি রিগ্যানকে পাঁচ তলায় উঠানো ও নামানোর সময় এক ব্যক্তিকে তাঁর খুব কাছে দেখা গেছে।

 

 

 

 

একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যরা যখন লিফটে করে জঙ্গি রিগ্যানকে নামাচ্ছিলেন তখন কালো কোট ও সাদা শার্ট গায়ে ওই ব্যক্তি লিফট থেকে নামছেন।

 

 

 

 

 

কারাগারে নেওয়ার জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলার আগ মুহূর্তে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নে রিগ্যান বলে উঠেন, ‘এটি আইএস টুপি। কারাগার থেকে এনেছি।’

 

 

 

 

 

সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের ষষ্ঠ তলায় ঢাকার বিশেষ সাইবার ট্রাইব্যুনালের সামনে ওই ব্যক্তিকে ফের দেখা যায়। ওই সময় আইনজীবীরা পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজেকে চট্টগ্রামের আইনজীবী বলে পরিচয় দেন। নাম বলেন রুহুল আমীন খান রুবেল। পরবর্তীতে এখনো সনদ পাননি এবং সহকারী হিসেবে কাজ করেন বলেও দাবি করেন। তিন দিন ধরে ওই কথিত আইনজীবীকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

 

 

 

 

 

জঙ্গি নিয়ে কাজ করেন এমন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, টুপির মাধ্যমে দণ্ডিত জঙ্গিরা তাদের প্রচার চেয়েছিল। তাই বলা যায়, এটি পরিকল্পিত। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কারাগারে ও আদালত এলাকায় তাদের সহযোগী থাকার আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সহযোগীরা কোন পর‌্যায়ে সক্রিয় ছিল তা খতিয়ে দেখতে হবে।

 

 

 

 

 

 

আদালত চত্বরে জঙ্গিদের মাথায় ‘আইএস টুপি’র ঘটনা তদন্তে কারা কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দুটি কমিটি গঠন করে। গত শনিবার কারাগারের কমিটি মহাপরিদর্শকের (আইজি-প্রিজন্স) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

 

 

 

 

 

পরদিন রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন জঙ্গিদের আদালতে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে তল্লাশি করা হয়। তখন কোনো টুপি পাওয়া যায়নি। এমনকি আদালত থেকে আসামিদের কারাগারে ফেরত আনার পরও তল্লাশি করে টুপি মেলেনি।

এই বিভাগের আরো খবর :