প্রথমবার্তা, নিজস্ব প্রতিবেদক :   ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও কোনঠাসা বিএনপির প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে অস্থিরতার শেষ নেই। ইতোমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ির খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, বিএনপি প্রার্থীদের চূড়ান্ত যে তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল তা রাতারাতি বদলে গেছে।

 

 

 

 

কয়েকটি ওয়ার্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যে দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন তাঁরা মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। দল আমাকে সমর্থন দেয়নি। যাকে দিয়েছে, তিনি সবেমাত্র বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এখনই কিছু বলতে চাই না। আগামী ৯ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তনের চেষ্টা করব। তারপর মুখ খুলব।’ উত্তরের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে মাসুদুজ্জামানকে। ওই ওয়ার্ডে গতকাল তুমুল বিক্ষোভ করেছে বর্তমান কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান দেওয়ান বুলবুলের সর্থকরা।

 

 

 

 

ঢাকা দক্ষিণের ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার ছোট ভাই মাসুদুর রহমান বাবলু মোল্লা। তাঁকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিফাত সাদেকীন চপল।প্রথমবার্তাকে চপল বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী বিতর্কিত।

 

 

 

 

আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকব। এলাকার সাধারণ মানুষই আমাকে প্রার্থী করেছেন।’দক্ষিণের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ শেখ  রফিকুল ইসলাম। প্রথমবার্তাকে তিনি বলেন, ‘দল সমর্থন দিয়েছে মাসুম মোল্লা নামের একজনকে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যও নন। সে কারণে আমি প্রার্থী হয়েছি।’৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ডেমরা থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি হারুনার রশিদ। ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সামসুদ্দিন ভুইয়া।

 

 

 

 

 

৬০ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা রইসউদ্দিন। ওই ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী লুত্ফর রহমান রতন।৬২ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রতন মেম্বার। তিনি একাধিকবার ওই ওয়ার্ডের মেম্বার ছিলেন।৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ আলী। ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফিরোজ আলম।

 

 

 

 

 

৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সারুলিয়া ইউনিয়নের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান। ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টি থেকে দলে আসা মাহমুদুল হাসান পলিনকে।

 

 

 

 

৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবু, আওয়ামী লীগ নেতা তোতা মিয়া, যুবলীগ নেতা আবদুল আওয়াল ও সালাউদ্দিন। ওই ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে হাবিবুর রহমান হাসুকে।৭০ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকসানা। ওই ওয়ার্ডে দলের সমর্থন পেয়েছেন বিএনপি ঘরানার হাজি আতিকুর রহমান।

 

 

 

 

 

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলরদের তালিকা চূড়ান্ত করতে তিনটি কমিটি করেছিল বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের কাউন্সিলর পদে মনোনীত করতে। কিন্তু সেই উদ্দেশ্যে পানি ঢেলে দিয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করা নেতা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা। নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে তাঁরা অনেক ওয়ার্ডে নিজেদের লোককে মনোনয়ন দিতে তদবির করেন। ফলে কমিটির করে দেওয়া তালিকা এবং গণমাধ্যমে পাঠানো তালিকার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে।

 

 

 

 

 

 

তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানা দুই দিন সাক্ষাৎকার নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। উত্তরের তালিকা এবং কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত তালিকার অন্তত ছয় স্থানে হেরফের পাওয়া গেছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাছাই কমিটি বুলবুল আহমেদ মল্লিক, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শাকিল মোল্লা, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. এনায়েত হাফিজ, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মাসুম খান রাজেশ, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে আজহারুল ইসলাম সেলিমের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

 

 

 

 

এ ছাড়া ৫২ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থীর ঘর ফাঁকা রাখা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তা বদলে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার শাহাদাৎ খান রনিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে  মো. এনায়েত হাফিজের নাম থাকলেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুম খান রাজেশকে সরিয়ে ওসমান গণি শাহজাহানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে আজহার ইসলাম সেলিমকে সরিয়ে অন্য একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে নাম না থাকলেও মো. আলমাস আলীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে ‘নাম জানা যায়নি’-ই রাখা হয়।

 

 

 

 

 

তালিকায় নাম হেরফেরের বিষয়ে বাছাই কমিটির সদস্য ও উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘বাছাই কমিটি যে তালিকায় স্বাক্ষর করেছে তা চূড়ান্ত। যদি পরে কোনো পরিবর্তন করে গণমাধ্যমে পাঠানো হয় তাহলে অবশ্যই সংশোধনী আসবে। এ নিয়ে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই।’

এই বিভাগের আরো খবর :

যে কোনো পুরুষ এমনকি স্বামীর সঙ্গেও......
জি.এম কাদের’কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
যুক্তরাষ্ট্রে চিঠির খাম খুলে সেনাসহ ১১ জন অসুস্থ!
রহস্যে ঘেরা কুমারী দেবীর আজানা কাহিনী!
তারুণ্য ও যৌবন রক্ষায় ইসলামি দিক-নির্দেশনা
প্রেমের অভিনয়ে যৌনকর্মীর সর্বস্ব লুট!
লিফটে চেপেই গেলে হয় চাঁদে! ভারতীয় ছাত্রের সুপার-আইডিয়াকে পুরস্কৃত করছে NASA
হাইকোর্টের রায়ই বহাল মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণে
গোলাপগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি’র ১০ দিন ব্যাপী মৌলিক প্রশি¶ণ সম্পন্ন
ছিটমহলে অবদান রাখায় বিজিবিকে অভিনন্দন : প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক তদন্তকারীর নাম ঘোষণা জাতিসংঘের
সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজ বোমা হামলা: হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ
জন্মদিনে স্ত্রী তানিয়ার উপহারে বাকরুদ্ধ বাপ্পা মজুমদার
যে ভিটামিনগুলো একসাথে খেলেই বিপদ!