প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    সদ্য সমাপ্ত ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদের ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ভোট কেন্দ্রে দেওয়া ফলাফল, চূড়ান্ত ঘোষণার সময় টাকার বিনিময়ে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী। সেই সঙ্গে নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়া, প্রার্থীকে অপহরণসহ নির্বাচনোত্তর নানা অভিযোগ আসছে নির্বাচন কমিশনের টেবিলে।

 

 

এসব অভিযোগ ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিও তুলছেন পরাজিত প্রার্থীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের কাছেও এসব অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফলাফল পাল্টানোসহ নানা বিষয়ে ২০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ প্রতিকারের জন্য নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

 

 

বলেন, ফল জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা দক্ষিণের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ফলাফল স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।  অন্যদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চার দিনের মাথায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বিজয়ীদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির নির্বাচন প্রশাসন শাখা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুযায়ী মঙ্গলবার এই গেজেট প্রকাশ করে।

 

 

 

দক্ষিণ সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ফল স্থগিত থাকায় সেই ওয়ার্ড বাদ দিয়ে এই গেজেট প্রকাশ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই গেজেটের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ আয়োজনের ব্যবস্থা নেবে সরকার। সিটি নির্বাচনের আইন ও বিধি অনুযায়ী- এ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জ করে দরখাস্ত করতে পারবেন। এক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রার্থীদের নামে সরকারি গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে নির্বাচনী দরখাস্ত জমা দিতে হবে তাদের।

 

 

 

দুই সিটির কাউন্সিলর পদের ফলাফল পাল্টানো ও ফলাফল বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। তবে আদালত চাইলে নির্বাচন বাতিল করতে পারেন। কেউ যদি চায়, আদালত পর্যন্ত যেতে পারেন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে, কোনো আদেশ দিলে সেটা আমরা দেখব। গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইভিএমে অতিরিক্ত ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

 

 

 

আঙ্গুলের ছাপ ও আইডি কার্ড ছাড়া যেহেতু ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তাই ভোটারকে অবশ্যই ফিজিক্যালি যেতে হয়েছে। ভোটার কেন্দ্রে না গেলে তার ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট হলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের ভোট অন্যজন দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কোনো বুথে ১০০ ভোট থাকলেও ১০০-এর বেশি ভোট পড়ার অভিযোগ করেছেন কোনো কোনো কাউন্সিলর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন ভোট দিতে যাননি, অথচ তার ভোটটি পড়েছে- এ রকম একটা উদাহরণ দেখাক, তাহলে বলা যাবে, ভোটাররা আসেননি, অথচ ভোট পড়েছে। ইভিএম সিস্টেমে ভোটার না এলে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইভিএমের যে কারিগরি দিক রয়েছে, তাতে এটা সম্ভব না।

 

 

 

 

কেন্দ্রের ফলাফল পাল্টে গেল চূড়ান্ত ঘোষণায় : ঢাকা দক্ষিণ সিটি সাধারণ ওয়ার্ড ৩১ নম্বরের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণায় কেন্দ্রের ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর। ফলে রবিবার ওয়ার্ড ৩১ নম্বরের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন।

 

 

 

একইভাবে দক্ষিণের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সঠিক ফলাফল ঘোষণা এবং ভোট পুনঃগণনার জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী মো. বিল্লাল শাহ। তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা না করে মৌখিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই ফলে জালিয়াতি আর গরমিলে ভরপুর। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী তাজউদ্দিন আহমেদও নির্বাচনে অনিয়মের কারণে ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। এমনকি ইভিএমের রেজাল্ট শিট না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই প্রার্থী।

 

 

 

ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটির ৬ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. সালাউদ্দিন রবিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি। উত্তরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী স্বপন আলী। ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগও করেন এই প্রার্থী।

 

 

 

 

একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিনও এই ওয়ার্ডের ফলাফল বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। ভোটারদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে কেন্দ্রে থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। এই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী আলমগীর কবির চৌধুরী ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। ভোটের আগের রাতে তাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয় বলেও ইসিকে জানিয়েছেন এই প্রার্থী।

 

 

 

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর। একটি কেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা উল্টে দিয়ে প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ছিল তার। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোটের ফলাফল স্থগিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

 

 

 

 

হিজড়া এনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ : হিজড়া এনে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন উত্তর সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুড়ি মার্কার প্রার্থী মো. মাসুদ খান। হিজড়া এনে টিফিন ক্যারিয়ার পদপ্রার্থী আবুল কাশেম বাকি প্রার্থীর পোলিং এজেন্টেদের করেছেন কেন্দ্র ছাড়া একই সঙ্গে ৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১০টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে দাবি করে ওই আসনে পুনঃতফসিলে দাবি জানিয়েছেন মাসুদ খান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার কাছে এই অভিযোগ করেন এই প্রার্থী। তিনি অভিযোগে বলেছেন, ৪০টি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টাকার বিনিময়ে নিজের পক্ষে নিয়েছেন।