প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরো দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। চারজন সুস্থ হয়েছে এবং নতুন শনাক্ত হয়েছে ৯ জন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে দুই হাজার ৫৪৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে মোট ৭০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। যাদের মধ্যে ৩০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং আটজন মারা গেছে। চিকিৎসাধীন ৩২ জন।

 

 

 

 

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, ঢাকায় ৯টি ও ঢাকার বাইরে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে এখন করোনাভাইরাস পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা উপকরণের সংকট নেই। এখনো ৭১ হাজার কিট সংরক্ষিত আছে।

 

 

 

 

চিকিৎসাকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণও মজুদ আছে ৬৪ হাজার, বিতরণ হয়েছে তিন লাখ ৬৬ হাজার। অন্যদিকে হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ১৩ হাজার ৮৭৯ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ৭৫ জন। আইসোলেশনে আছে ৭৭ জন।

 

 

 

 

 

অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তকৃত ৯ জনের মধ্যে আটজনের নমুনা পরীক্ষা আইইডিসিআরে করা হয়েছে এবং একজনের ঢাকার বাইরে। তাদের পাঁচজনের আগে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকার ইতিহাস রয়েছে। দুজন বিদেশ থেকে এসেছে এমন কারো সংস্পর্শে ছিল। বাকি দুজনের তথ্য বিশ্লেষণ চলছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া নতুন আক্রান্তদের মধ্যে আছে দুটি শিশু (বয়স ১০-এর নিচে), ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের আছে তিনজন, দুজনের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, একজনের ৬০ থেকে ৭০ বছর এবং একজনের বয়স ৯০ বছর।

 

 

 

 

এর মধ্যে ৯০ বছরের নতুন শনাক্তকৃত ব্যক্তিসহ গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। মৃত আরেক ব্যক্তি আগেই আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল, তার বয়স ৬৮ বছর। মৃত দুজনের একজন ঢাকার বাসিন্দা, আরেকজন ঢাকার বাইরের। একজনের হৃদরোগ ছিল, আরেকজনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ছিল।

 

 

 

 

মহাপরিচালক বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ করে যারা মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তিনি কোয়ারেন্টিনে থাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিসহ সবাইকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানান।

 

 

 

 

ঢাকাসহ ৯ জেলায় ছড়িয়েছে : এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশে যে ৬১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তারা কোন কোন এলাকার তা নিয়ে তথ্য পর্যালোচনা করেছে আইইডিসিআর। এতে দেখানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ঢাকায় (মহানগরী) ৩৫ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরীর ১৮ এলাকা রয়েছে। আর জেলা বিভাজন অনুসারে আক্রান্ত হয়েছে ৯ জেলার মানুষ। বাকি ৩৬ জন আক্রান্ত এই ৯ জেলায়। জেলাগুলো হচ্ছে ঢাকা, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা, কক্সবাজার, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, কুমিল্লা ও গাজীপুর।

 

 

 

 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাওয়া রাজধানীর ১৮টি এলাকা হচ্ছে—মনিপুর (পাঁচজন), বাসাবো (চারজন), পুরান ঢাকার বাংলাবাজার (তিনজন), সেনপাড়া, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, মগবাজার, উত্তরা ও উত্তরখান (দুজন করে) এবং মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর, যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর, কলাবাগান, রামপুরা, মহাখালী, বনানী-গুলশান, বারিধারা ও খিলক্ষেত (একজন করে)।

 

 

 

 

 

ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পরুন : এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রত্যেককেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এখন থেকে সামনের কিছুদিন ঘর থেকে খুব জরুরি না হলে বাইরে বের হওয়াই উচিত হবে না।

 

 

 

 

 

আর বাইরে কোনো প্রয়োজনে বের হলেই মুখে মাস্ক পরে বের হতে হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা বেড পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।