প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় পুরো বিশ্বই আজ স্তব্ধ। দেশে দেশে চলছে লকডাউন, ঘরে বন্দি মানুষ। তবুও প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্ত বাড়ছে প্রতি মিনিটে।

 

 

 

এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে মারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় লাখ ছুঁই ছুঁই। লকডাউনে কোলাহল, ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকা আপনাকে চারপাশের পরিস্থিতি ভীত করে তুলছে প্রতিনিয়ত।

 

 

 

 

এ এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা। মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে থাকার অক্ষম প্রচেষ্ঠা। বাইরে বেরুলে করোনার সংক্রমণ, বাড়িতে থাকলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ভিতরে জমতে থাকা দুশ্চিন্তা, অবসাদ আপনার আত্মবিশ্বাসও ভেঙেচুরে দিতে চাইছে।

 

 

 

 

এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফলে ঘুমালেই নানা রকম উদ্ভট স্বপ্ন দেখতে শুরু করছেন। কেন এমন হচ্ছে? সাইকোলজিস্টরা বলছেন চারদিকের ভীতিকর পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদ থেকেই এমনটা ঘটছে।

 

 

 

 

নিবন্ধটির লেখক ব্রিট ডাউসন বলছিলেন, ‘লকডাউন শুরু হওয়ার পরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতি রাতেই আমি উদ্ভট এবং সময়ের সাথে অদ্ভুতভাবে অপ্রাসঙ্গিক সব স্বপ্ন দেখছি।

 

 

 

গত রাতে সবচেয়ে বিস্ময়কর স্বপ্নটি দেখেছি। সেটা এমন ছিল যে, আমি প্রাইমারি স্কুলে আটকা পড়েছি, বস কিছুতেই আমাকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিচ্ছে না। এছাড়া, একজন ধর্মপ্রাণ মৌলবাদী আমাকে হত্যা করতে আসছে।

 

 

 

 

আবার চোরাচালান বা নিষিদ্ধ ড্রাগ বিক্রেতার তালিকায় আমার নাম চলে এসেছে এমন সব অদ্ভুত ও ভীতিকর স্বপ্ন। যদিও এই ঘটনাটি কেবল আমার ক্ষেত্রে ঘটছে এমন নয়, আমার বন্ধুদের মধ্যেও অনেকে এমন অদ্ভুত সব স্প্ন দেখতে শুরু করেছে।’

 

 

 

লন্ডনের ড্রিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ম্যাসাচুসেটস-এর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ের গবেষকরা বর্তমানে ‘মহামারি স্বপ্ন’ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তারা আলাদা আলাদা স্বপ্নের সমীক্ষা চালাচ্ছেন।

 

 

 

 

হার্ভার্ডের স্বপ্ন জরিপের লেখক ডিয়ারড্রে লেই ব্যারেটের মতে, উত্তরদাতারা এমন স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন যা স্পষ্টভাবে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত। অন্যদিকে আরও কিছু রূপক স্বপ্ন রয়েছে যা মহামারিকে ইঙ্গিত দেয়।

 

 

 

উদাহরণস্বরূপ- পোকামাকড় সম্পর্কে। টুইটারের মাধ্যমে, এসব উদ্ভট স্বপ্নের অর্থ খুঁজে ফিরছেন লোকেরা। তারা দুঃস্বপ্নগুলি সম্পর্কে সান্ত্বনা খুঁজছেন।’

 

 

 

 

ব্রাইটনভিত্তিক সাইকোলজিস্ট ম্যাথিউ বোয়েস বলেন, ‘এটি খুবই আশ্চর্যজনক বিষয় যে এ সময়ে লোকেরা অদ্ভুত ও প্রাণবন্ত সব স্বপ্ন দেখছে। এমন সংকটের সময়ে লোকেরা স্বপ্নকে আরও বেশি গুরুত্ব দেয় ফলে তাদের মাঝে স্বপ্ন দেখার প্রবণতা বেড়ে গেছে।

 

 

 

 

এমন দুঃস্বপ্ন মানুষ সাধারণত চাকরি পরিবর্তন করার সময় বা পরিবারে কারো যখন মৃত্যু ঘটেছিল সে সময় দেখে থাকে। মহামারি করোনার এই দুঃসময়ে যখন পুরো বিশ্ব ওলটপালট হয়ে গেছে তখন এ ধরণের দুঃস্বপ্ন দেখা অস্বাভাবিক নয়।’

 

 

 

 

স্বপ্নগুলির সংবেদনশীল প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোয়েস ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, ‘যখন কেউ স্বপ্ন দেখছেন তখন এই প্রক্রিয়াকরণের সাথে যুক্ত মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলি নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি সক্রিয় থাকছে -এমনকি কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ এত বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা জাগ্রত অবস্থায়ও দুঃস্বপ্ন দেখছে কিন্তু তারা সেটা বুঝতেও পারছে না।’

 

 

 

তিনি আরও যোগ করেছেন, মস্তিষ্কের যে অংশটি আমরা যুক্তিবাদী, যৌক্তিক চিন্তাভাবনার জন্য ব্যবহার করি তা আসলে বন্ধ হয়ে যায়, তাই আমরা অনেকেই এই ধারণা পেয়েছি যে আমরা স্বপ্নে আছি।

 

 

 

 

 

স্বপ্ন দেখার একটি মূল উপাদান হচ্ছে রূপক নির্মাণের অভাব যা এটিকে বাস্তবতা থেকে পৃথক করে। জাগ্রত হওয়ার সময় যখন আবেগের কথা বলি, আমরা প্রায়শই সেগুলিকে রূপকগুলিতে আবদ্ধ করি।

 

 

 

বোয়েস বলেছেন, পার্থক্যটি হল এমন একটা পরিস্থিতিতে আমরা যখন ঘুমিয়ে যাই তখন একটি ট্রমা নিয়েই ঘুমাতে যাই। ফলে ঘুমের মাঝেও আমরা নিজেদের সেখানে খুঁজে পাই এবং দুঃস্বপ্নগুলি দেখতে থাকি।

 

 

 

 

বিশ্বজুড়ে এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে আপনার প্রিয়জনদের করোন ভাইরাসে কারণে মারা যাওয়া, লকডাউনে আটকে পড়া, কোনও অপরিচিত ব্যক্তির কুকুরটিকে আঘাত করা বা আপনার বন্ধুকে বরফ ঠান্ডায় জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গনের মতো স্বপ্ন দেখা এটা খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

 

 

 

 

আমরা এখন এমন এক সময় পার করছি, যেখানে দুঃস্বপ্ন দেখার প্রচুর পরিমাণ উপাদান রয়েছে। করোনাভাইরাস সঙ্কট আরও বেড়ে যাওয়ার আগে আমরা যে বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম এখন সেগুলিই মূলত স্বপ্নের মাধ্যমে দেখছি।

 

 

 

 

 

প্রচণ্ড উদ্বেগের কারণে এমনটা হচ্ছে। অজানা আতঙ্কে আমাদের গৃহবন্দি সময় কাটছে, আগামী দিনে কী অপেক্ষা করছে সেটা আমরা কেউ বলতে পারি না। ফলে মানসিক উদ্বেগ থেকে এমন সব অদ্ভুত স্বপ্ন দেখা খুবই স্বাভাবিক।