প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  ব্রাহ্ম সমাজের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা ও সিটি কলেজের অধ্যক্ষ হেরম্বচন্দ্র মৈত্র সম্পর্কে প্রচলিত একটা গল্প হল ‘‘জানি, কিন্তু বলব না’’ , যা এক সময় শিক্ষিত লোকেদের মুখে মুখে ঘুরত। সেটা হল এই গোঁড়া মানুষটিকে রাস্তায় দেখে এক ছোকরা তাঁর কাছ থেকে জানতে চেয়েছিল স্টার থিয়েটারটা কোনদিকে ৷ যা শুনে রীতিমতো রেগে গিয়ে হেরম্বচন্দ্র জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি তা জানেন না৷ এই বলে হন হন করে হেঁটে চলে যাওয়ার সময় ওঁনার খেয়াল হয় নীতিবাদী হতে গিয়ে তিনি তো মিথ্যে বলে ফেলেছেন৷ ফলে তিনি আবার পিছন ফিরে গিয়ে ওই যুবকটিকে ধরেন এবং বলেছিলেন- জানি কিন্তু বলব না৷ সিনেমা থিয়েটারকে সম্পর্কে যার এমন ছুতমার্গ তাঁর ছেলেই প্রেমে পড়লেন কানন দেবীর৷

হ্যাঁ কানন দেবী মানে যাকে অনেকে আগের জমানার সুচিত্রা সেন বলে থাকেন৷ সে যুগে সিনেমা যারা করতেন বিশেষত মেয়েদের সমাজ ভীষণ ভাবে নিচু চোখে দেখত, তার উপর এই কানন দেবীর জন্ম থেকে কৈশোরটাও ছিল চরম অন্ধকারময়৷ যার জন্য একসময় কানন দেবী বলেছিলেন- কে বাবা, কে মা সেটা বড় কথা নয় বরং অভিনেত্রী কানন বালা এই পরিচয়টাই তার জন্য যথেষ্ঠ৷ সেই নারীকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেবেন কি করে হেরম্ব মৈত্র৷ অথচ তাঁরই পুত্র অশোক কাননের প্রেমে ডগমগ৷ সেই সময় অক্সফোর্ড থেকে ফিরে অশোক মৈত্র তখন বিশ্বকবির বিশ্বভারতীতে পড়ানো শুরু করেছেন। সুযোগ পেলেই তিনি কলকাতা চলে আসেন ফুর্তির খোঁজে। তখন ওনার কল্পনা ও আবেগ জুড়ে রয়েছে একটাই মুখ, সেটা হল কানন বালা৷ সেই সময় কলকাতা এসে রীতিমতো নেশায় ঘোরে অশোক বন্ধুদের জানিয়েছিলেন, তাঁর চাওয়া-পাওয়ার একমাত্র বাকী থেকে যাচ্ছে কাননকে পাশে পাওয়া ৷ যা শুণে ওই অবস্থায় অশোকের বন্ধুবান্ধবরা তাঁকে সোজা নিয়ে যান একেবারে কানন দেবীর বাড়িতে৷ তার পরেই অশোক-কাননের প্রেম জমে ওঠে৷

 

 

 

 

 

তাদের প্রেম জমে উঠলেও হেরম্বের গোঁড়ামির জন্য এই দম্পতিকে ছাতনা তলায় আসতে বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়৷ শোনা যায় কাননকে পুত্রবধূ হিসেবে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন অশোকের মা কুসুমকুমারী দেবী। আর ননদ রানী ও ননদাই সংখ্যাতত্ত্ববিদ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর৷ খোদ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কাননকে পরিচয করিয়ে দিয়েছিলেন এই প্রশান্তচন্দ্রই৷ হেরম্বচন্দ্রের মৃত্যুর পর ১৯৪০-এর ডিসেম্বরে অশোক কাননের বিয়ে হয়েছিল৷ তখন অশোক ছত্রিশ আর কাননের বয়স পঁচিশ বছরের।

অনেকেই মনে করেছিলেন ওই রকম পরিবারে বিয়ে হওয়ার পরে কানন দেবী গান ও অভিনয় ছেড়ে দেবেন।এই বিয়ে হয়েছিল কাননের আভিজাত্যে ওঠার এক স্বর্গীয় সোপান। যেহেতু শ্বশুরবাড়ি মৈত্র পরিবার ছিল তখন বাঙালি সমাজের ক্রেম দ্য ল্য ক্রেম। কিন্তু সে পথে হাঁটলেন না কানন বালা৷ ফলে হেরম্ব মৈত্র না থাকলেও এই দম্পতীর সম্পর্কে কালো মেঘ জমতে থাকল৷ কানন দেবীর জানিয়েছিলেন-অশোককে তিনি দেবতার মতো পুজো করেছেন, অমন মানুষটির সংস্পর্শে এসে তিনি জীবনের রূপরসগন্ধের স্পর্শ পেয়েছিলেন, পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গে দীক্ষা পেয়েছিলেন, অনুভব করেছিলেন ভালবাসা কারে কয়৷ অথচ সেখানেই জীবনের এক বৈপিরত্য হল সেই ঘরের মানুষটিই বিবাগী হলেন স্ত্রী যে-কাজটা ভালবাসে সেটাই করে বলে৷ এরফলে ওই বিয়ে পাঁচ বছরের মাথায় ভেঙে যায়। অশোকের ধারণা ছিল বোন রানী এবং ভগ্নিপতি প্রশান্তের সমর্থন ছিল কাননের দিকে৷ ফলে কানন ডিভোর্স ফাইল করলেও অশোক সেই মামলা কন্টেন্ট করেননি। আবার কেউ কেউ মনে করেন হেরম্বচন্দ্রের এই সম্পর্কের প্রতি দীর্ঘশ্বাসই এই বিচ্ছেদকে ত্বরান্বিত করেছে৷

এই বিভাগের আরো খবর :

চাঁদপুরে আঞ্জুমানে এশায়াতে ছাইফীয়া কমিটির কাউন্সিল ও মহাসমাবেশ
ফিলিস্তিন সংকটে মুসলমানদের করণীয়
মহাত্মা গান্ধীর বিদ্রোহী পুত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন – জেনে নিন কেন
চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস ডিসির নতুন ভিডিও নিয়ে(ভিডিওসহ)
নামাজের মধ্যে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহে করণীয়
সত্যিই কি আফ্রিদির প্রেমে পড়েছেন জেরিন!
সরকারি ইট তুলে বাড়ির রাস্তা
উত্তেজনাকর লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই বোন
ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আইপিআই এর আহ্বান
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যা বললেন ইসি মাহবুব
নেদারল্যান্ডে মসজিদ নিয়ে মুসলিমদের মাঝে আতংক!
১১ বছর ধরে স্বামীর মরদেহ ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন স্ত্রী!
এবার আসছে উড়ন্ত ট্রেন (ভিডিও)
দিনাজপুরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে জেলা তথ্য অফিস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ...