প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রিসালদার মোসলেহউদ্দিন নিজের নাম-পরিচয় বদলে ফেলেছেন। তার নতুন নাম রাখা হয়েছে রফিকুল ইসলাম খান। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে এ নামেই তার পরিচয় দেয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি রিসেলদার (বরখাস্ত) মোসলেহউদ্দিনকে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় মিডিয়া খবর দিয়েছে।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁর ছেলে-মেয়ে ও পুত্রবধূ নতুন নামেই তাদের বাবা পরিচয় দিচ্ছে। এমনকি তাদের পিতার নামের স্থানে রফিকুল ইসলাম খানের নামেই পরিবারের সব সদস্য জাতীয় পরিচয়পত্র পান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিসালদার মোসলেহউদ্দিন ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের দলে ছিলেন অগ্রভাগে। শুধু তাই নয়, ঠাণ্ডা মাথার এ খুনি জেলহত্যা মামলারও আসামি।

মোসলেহউদ্দিনের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে সবকিছু ঠিক থাকলেও শুধু পিতার নাম বদল করা হয়েছে। মোসলেহউদ্দিনের নামের জায়গায় লেখা হয়েছে রফিকুল ইসলাম খান।

৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর নরসিংদী জেলার শিবপুরের দত্তেরগাঁও এলাকায় বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন মোসলেহউদ্দিন। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্ত শুরু হলে তার বাড়িসহ বেশকিছু সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। খুনি রিসালদার মোসলেহউদ্দিন পালিয়ে যান।

মোসলেহউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা পরে নরসিংদী এলাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে সরকারি সব ধরনের কাগজপত্রে তাদের পিতার নাম হয়ে যায় রফিকুল ইসলাম খান।