প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ইন্সটাগ্রামে গ্রুপিং করে কম বয়সী বালিকাদের গণধর্ষণের পরিকল্পনা ফাঁদছিল ভারতের একদল টিনেজার। এমন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১৫ বছর বয়সী এক টিনেজারকে। শুধু যে তারা ধর্ষণ পরিকল্পনা করছিল এমন নয়। একই সঙ্গে মেয়েদের সম্পর্কে তারা অশালীন মন্তব্য করছিল। এই গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত আরো কমপক্ষে ২০টি টিনেজার। পুলিশ তাদেরকে শনাক্ত করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি ও বিবিসি। এতে বলা হয়, স্কুলপড়–য়া ওই টিনেজাররা ভারতের রাজধানী দিল্লির।

 

 

তারা মিলে গঠন করেছে একটি গ্রুপ। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘বয়েস লকার রুম’। এই গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত টিনেজাররা অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালিকাদের ধর্ষণের পরিকল্পনা করছিল। তাদের মধ্যে এ নিয়ে যে কথোপকথন হয়েছে তার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই দিল্লি সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের জন্য ভারতে সবচেয়ে অনিরাপদ শহরগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এখানেই ২০১২ সালের ডিসেম্বরে চলন্ত বাসে মেডিকেল পড়–য়া ‘নির্ভয়া’কে গণধর্ষণ করা হয়। তারপর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাকে ফেলে যাওয়া হয় রাস্তার ধারে। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো ভারতে ক্ষোভের আগুন জ¦লে ওঠে। শুধু ভারত নয়, পুরো বিশে^ নিন্দা প্রকাশ করা হয়। এর ফলে ভারত সরকার ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বিরোধী কঠোর আইন করে। এই আইনে কয়েকদিন আগে নির্ভয়া ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তদের ফাঁসি কার্যকর করা হয় তিহার জেলে।

 

 

 

কিন্তু কিছুতেই কমছে না ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির ঘটনা।
সর্বশেষ টিনেজারদের এই গ্রুপটি সম্পর্কে বেশ কিছু ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারী সচেতন হন। এ গ্রুপের সদস্যদের আচরণ সম্পর্কে সন্দেহ হয় লোকজনের। এক পর্যায়ে দেখা যায় যে, এই গ্রুপের সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে তাদের সহপাঠী ও অন্য কম বয়সী মেয়ের ছবি শেয়ার করছে। এক্ষেত্রে ওইসব মেয়ে কিছুই জানে না। সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয় আপত্তিকর কৌতুক বা কমেন্ট, যা ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির শামিল। এ ঘটনার স্ক্রিনশট টুইটার সহ আরেক সামাজিক ওয়েবসাইট হোয়াটসঅ্যাপে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। শেয়ার হয় আরো সামাজিক প্লাটফর্মে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রথমে তদন্ত শুরু করেন সাইবার বিশেষজ্ঞ শুভম সিং। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। তিনি দেখতে পান এসব স্ক্রিনশটের অনেকগুলোই এডিট করা। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কেউই এগিয়ে এলেন না অভিযোগ করতে। তাই আমরা চেষ্টা করতে লাগলাম এই গ্রুপের নেপথ্যে কে বা কারা। তারা এরই মধ্যে ইন্সটাগ্রামে তাদের একাউন্ট মুছে দিয়েছে। কিন্তু ওইসব স্ক্রিনশট এবং অন্য কিছু টুলস ব্যবহার করে তাদেরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। এরপরই প্রাপ্ত তথ্য শেয়ার করি পুলিশের সঙ্গে। তারই ধারাবাহিকতায় ওই টিনেজারকে এখন নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ওদিকে এই গ্রুপ সম্পর্কে আরো তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে দিল্লি ওমেন্স কমিশন।