প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ চারদিকে কত লোক মারা যাচ্ছে। কেউ স্বীকৃতি পাচ্ছে, কেউ না। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। স্বাস্থ্য বুলেটিনে যেদিন একজনের মৃত্যুর খবর দেয়া হল সেদিন সংবাদ মাধ্যমের খবর ছিল অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। বলা হচ্ছে স্বাস্থ্য বুলেটিনের বাইরে যারা মারা যাচ্ছেন তারা করোনায় মারা গেছেন তা বলা যাবেনা। তার মানে কি? লোকজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও তালিকাভুক্ত হবেনা। এমনকি টেস্টের রেজাল্ট আসার আগেই অনেকেই মারা যাচ্ছেন।

 

 

 

পরে দেখা যাচ্ছে তার শরীরে করোনা পজিটিভ ছিল। এখন দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে হাসপাতালে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও অনেকেই নথিভুক্ত হচ্ছেন না। অনেক হাসপাতাল থেকে পরিবার পরিজনকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে ‘আপনার আত্মীয়’ মারা গেছেন। আমরা দাফন করে ফেলছি। এরা কি করোনায় মারা যাননি? হাসপাতালগুলো এক অজ্ঞাত কারণে সঠিক তথ্য দিচ্ছেনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্কুলার দিয়ে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোন চিকিৎসক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এতে কি লাভ হচ্ছে বা হবে? আখেরে কোন লাভ হবেনা। একদিকে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেব, সরকারের ভাল কাজ নিয়েও জনগণ প্রশ্ন তুলবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আমরা সহানুভূতি পাওয়ার সুযোগ হারাবো। একজন মানুষও মারা না যাক এটা কে না চায়! কিন্তু অবিশ্বাসের একটি সংস্কৃতি তৈরি করে আমরা কি লাভ করবো? করোনাতো বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়। বৈশ্বিক এ সমস্যা মোকাবিলায় আমরা যদি সফল হই তাহলে সবাই বাহবা দেবে। জাতিসংঘ প্রশংসা করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাতো মডেল হিসেবে বেছে নেবে। আর যদি ভুল তথ্যের মধ্যে সাফল্য বন্দি হয়ে যায় তখনতো সবই যাবে। আন্তর্জাতিক তদন্তের মধ্যে পড়ে যাব আমরা। এমনিতেই সবকিছু খুলে দিয়ে আমরা মস্ত বড় ঝুঁকি নিয়েছি। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বলছেন এ কেমন কথা? যেখানে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সেখানে সবকিছু খুলে দেয়ার মধ্যে কি যুক্তি থাকতে পারে? মনে রাখতে হবে, যে সব দেশ খুলে দিয়েছে সেসব দেশ মৃত্যুর মিছিল থামিয়ে এ পথ বেছে নিয়েছে। ওসব দেশের সমস্যা আর বাংলাদেশের সমস্যা এক নয়। বাংলাদেশে করোনা এসেছে অনেক পরে। কামড়ও দিচ্ছে সবার শেষে।

 

 

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক কবুল করেছেন সবকিছু খুলে দেয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে। এটা তিনি কার বিরুদ্ধে বলছেন? কাকে বলছেন? কোন কোন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন, সব ওপেন করে দিলে অসুবিধা হবেনা। কিছু লোক মারা গেলেও যেতে পারে। এসব বিশেষজ্ঞের কেউ কেউ ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছিলেন বাংলাদেশে করোনা আসবেনা। আমরা অবশ্য বেমালুম ভুলে গিয়েছি এটা রাজনৈতিক সমস্যা নয়। নানা কৌশলে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেললাম। আমরা ভয়ংকর একটি সংক্রমণ রোগের সঙ্গে লড়াই করছি। এটা মোকাবিলায় একটা সাইন্স রয়েছে। সাইন্স দিয়েই রুখতে হবে। ভারতে এই প্রশ্নটা ব্যাপকভাবে উঠেছে এখন। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে কিছু কিছু রাজ্যে তথ্য গোপন করার প্রবণতায় ভুগতে হচ্ছে এখন। উদাহরণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সোমবার জানানো হয় মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ জন। দিল্লি থেকে এই তথ্য অগ্রাহ্য করে বলা হয় প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গে মারা গেছেন ১৩৩ জন।