প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ পবিত্র কোরআন শরীফ এ এমন তিনটি সূরা রয়েছে, যা পাঠ করলে আসমান, জমিন, জিন এবং মানুষ এর সর্বপ্রকার অনিষ্ট হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

 

 

এই তিনটি সূরা হল :
– সূরা ইখলাস
– সূরা ফালাক
– সূরা নাস

 

 

এই করোনার ক্রান্তিকালে আমরা সব সময় এ তিনটি সূরা পাঠ করতে পারি। সেই সঙ্গে রমজানে আমরা বেশি বেশি আমল করতে এগুলো পাঠ করতে পারি নিয়মিত।

কুরআন মজীদের শেষে মূল লিপিতে দু’টি ভিন্ন ভিন্ন নামে দুটি সূরা রয়েছে। কিন্তু নামে ভিন্ন হলেও এদের পারস্পরিক সম্পর্ক বেশ গভীর। উভয়ের বিষয়বস্তু পরস্পরের সাথে এত বেশী নিকট সম্পর্ক রাখে যে এদের একটি যুক্ত নাম ‘মু’আওবিযাতাইন’ (আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দু’টি সূরা) রাখা হয়েছে।

 

 

ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘দালায়েলে নবুওয়াত’ বইতে লিখেছেন : এ সূরা দু’টি নাযিলও হয়েছে একই সাথে। তাই উভয়ের যুক্তনাম রাখা হয়েছে ‘মু’আওবিযাতাইন’। আমরা আজ সূরা ফালাক-এর বাংলা উচ্চরণ, মর্মবাণী ও শানে নুযূল সম্পর্কে জেনে নিব।

 

 

সূরা ফালাক

পারা ৩০, আয়াত ৫, রুকু ১ (মাদানী)

 

 

বাংলা উচ্চারণ
‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ক্বুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মাখালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা অক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফাসাতি ফিল্ উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।’

মর্মবাণী
‘দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে
(হে নবী! তুমি) বলো, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের স্রষ্টার। আশ্রয় গ্রহণ করছি তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে, রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে, গ্রন্থিতে ফুৎকারদানকারী ডাইনিদের অনিষ্ট থেকে, হিংসুকের হিংসার অনিষ্ট থেকে।’

 

 

শানে নুযূল
হুদাইবিয়ার ঘটনার পর লাবীদ ইবনে আসাম এবং তার কন্যারা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যাদু করেছিল। ফলে তিনি কিছুটা কষ্ট অনুভব করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা যাদুকরের নাম এবং কোথায়, কিভাবে যাদু করা হয়েছে এ সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন।

 

 

চিরুনী ও চুলের সাহায্যে যাদু করা হয়, যা যারওয়ান কূপের তলদেশে একটি পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। এই অসুস্থতার সময় দুটি সূরা নাযিল হয়েছে (যার একটি সূরা ফালাক)। সূরা দুটি নাযিল হওয়ার পর ফেরেশতাদের বিবরণ অনুযায়ী ওই কূপ থেকে তা তুলে আনা হয়। অতপর ওই সূরা দুটি পড়ে গিরা খুললে তৎক্ষণাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ হয়ে উঠেন।