প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। দেশে দেশে চলছে লকডাউন। এখনো আবিষ্কার হয়নি এই মহামারীর কোনও প্রতিষেধক।

 

আপাতত প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই একমাত্র পন্থা এই ভাইরাস থেকে বাঁচার। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলে নিরব ঘাতকের মতো মানুষের দেহে ঢুকে পড়ছে। এবার করোনা থেকে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই এক ধরনের মাস্ক তৈরির কাজ চলছে।

 

যা করোনার মৃত্যু ঘটাবে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা এমন ধরনের ফেস মাস্ক আনতে যাচ্ছেন যা করোনাভাইরাসকে মেরে ফেলবে এবং মানুষের জীবন বাঁচাবে। এসব মাস্কে কেমিক্যালের একটি স্তর থাকবে।

 

সেখানে করোনাভাইরাস আটকে যাবে এবং এর মৃত্যু ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী নতুন একটি মেডিকেল মাস্ক নিয়ে কাজ করছেন। করোনাভাইরাসের গায়ে ‘এস-প্রোটিন’ স্পাইক থাকে।

 

এর মাধ্যমেই এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং শরীরের বিভিন্ন কোষগুলোতে সংক্রমণ ছড়ায়।বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন মাস্কের মধ্যে এনজাইমের একটি স্তর থাকবে। এর মাধ্যমে করোনাভাইরাসের প্রোটিন স্পাইক আলাদা হয়ে মারা যাবে।

 

বিজ্ঞানীরা এই মাস্ক নিয়ে খুবই আশাবাদী। তারা বলছেন, যদি তাদের আবিষ্কার সফল হয় তবে কয়েক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এসব মাস্ক ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা সরাসরি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা করছেন তাদের জন্য এই মাস্ক খুবই জরুরি।

 

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতালের কর্মীরাও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে এই মহামারির পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

 

কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিবাকর ভট্টাচার্য্য এক বিবৃতিতে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে আমরা এন-৯৫ মাস্কের মতো এমন এক ধরনের মাস্ক আনতে সক্ষম যাতে আলাদা একটি স্তর থাকবে। এটা শুধুমাত্র সঠিকভাবে ফিল্টারের কাজই করবে না বরং তা ভাইরাসকেও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।