প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  করোনার চিকিৎসায় এখনো কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি। চলছে গবেষণাও। তবে এবার চীনা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এক ওষুধেই মরবে ভাইরাস।

 

এমনভাবে ভাইরাসের প্রোটিনকে ধরবে যে পালাবার আর পথ পাবে না!পুরনো ওষুধ নয়, নানা উপাদানের মিশ্রণে নতুন করে গড়ে তোলা ড্রাগও নয়, এই ওষুধ তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি দিয়ে।

 

করোনা সারিয়ে ওঠা রোগীদের প্লাজমা বা রক্তরস থেকে অ্যান্টিবডি ছেঁকে নিয়ে তাই দিয়ে এমন এক ড্রাগ বানিয়েছেন চীনে বিজ্ঞানীরা যাতে আরএনএ ভাইরাসের প্রোটিন ভেঙেচুরে দেওয়া যায়।

 

চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটিতে এই ওষুধের গুণমান ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ওই ওষুধে এমন অ্যান্টিবডি আছে যা সংক্রমণ কমাতে পারে খুব কম দিনের মধ্যেই।

 

শুধু তাই নয়, ভ্যাকসিনের মতোই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে তুলতে পারে শরীরে। ওই ড্রাগ শরীরে প্রয়োগ করলে ভাইরাসের সংক্রমণ তো কমবেই, কিছুদিনের জন্য ভাইরাসপ্রতিরোধী একটা সুরক্ষাকবচও তৈরি হবে শরীরে।

 

বাইরে থেকে কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যাথোজেন শরীরে ঢুকতে সাহস পাবে না।করোনার সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন ৬০ জন রোগীর রক্তরসে তৈরি অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং করে এই নয়া ওষুধ তৈরি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।

 

যে কোনো ভাইরাস বা প্যাথোজেনের সংক্রমণ হলে শরীরও তার সামর্থ অনুযায়ী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। ভাইরাল প্রোটিনের মোকাবেলা করতে মানুষের শরীরেই তৈরি হয় অ্যান্টিবডি। এই অ্যান্টিবডি হলো শরীরের অস্ত্র যা ক্ষতিকর শত্রুর সঙ্গে লড়াই চালায়।

 

দেখা গেছে, কিছু অ্যান্টিবডি এই আরএনএ ভাইরাসের প্রোটিনকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তার সঙ্গে লড়াই চালাতে পারে। এই অ্যান্টিবডিগুলোকেই যদি শনাক্ত করে তাদের ক্ষমতা বাড়ানো যায়, তাহলে একটা পর্যায় অবধি ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দেওয়া সম্ভব।

 

সেই গবেষণাই চলছে চীনে। এই খোঁজ চালাতে গিয়েই এমন ৬০ জন রোগীর শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। দাবি, এই অ্যান্টিবডির মিশ্রণ ভাইরাল প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।

 

বেইজিংয়ের ‘অ্যাডভান্সড ইনোভেশন সেন্টার ফর জিনোমিক্স’র ডিরেক্টর সানি জ়ি বলেছেন, ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের শরীরে এই ড্রাগ প্রয়োগ করে সুফল মিলেছে। কভিড পজিটিভ ইঁদুরের শরীরে এই অ্যান্টিবডি ইনজেক্ট করে দেখা গেছে সংক্রমণ একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় কমছে।

 

অর্থাৎ অ্যান্টিবডি যে একেবারে ভাইরাসকেই টার্গেট করছে, সেটা প্রমাণিত। ভাইরাসের সংক্রামক প্রোটিন যদি টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে, তাহলে সংক্রমণ আর ছড়িয়ে পড়তে পারে না।

 

সংক্রমিত কোষগুলো একটা গণ্ডিতেই আটকে পড়ে। তাদের ঘিরে ফেলে অ্যান্টিবডি। শরীরের ভেতরেই একটা বর্ম তৈরি হয়ে যায় যাকে ভেদ করে ভাইরাস আর আক্রমণ শানাতে পারে না।

 

এদিকে, বি-৩৮ ও এইচ-৪ নামে জোড়া অ্যান্টিবডিও খুঁজে পেয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা যা করোনাভাইরাসের খোঁচা খোঁচা স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন ভাঙতে পারে। চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এ এই যমজ অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চলছে।

 

আরএনএ ভাইরাসের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনের সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে এই দুই অ্যান্টিবডি। অনেকটা ক্যাপের মতো স্পাইক প্রোটিনের ওপর আবরণ তৈরি করে দেয়।

 

ফলে ভাইরাল প্রোটিন আর দেহকোষে তাদের সেই ‘বন্ধু’ প্রোটিন এসিই-২ রিসেপটরের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে না। অর্থাৎ ভাইরাসের প্রোটিন ও দেহকোষের বাহক প্রোটিনের বন্ধুত্বটা আগে ভেঙে দেয় এই দুই অ্যান্টিবডি। এই জোড়া অ্যান্টিবডি দিয়েও ড্রাগ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।