প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার সাইক্লোন আম্ফান ইতোমধ্যে ঢুকে পড়েছে বঙ্গোপসাগরের সীমানায়। আম্পানের কারণে গতকাল ১৯ মে বন্দরের জেটিতে থাকা ১৯টি জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভ্যাসেলগুলো (বড় জাহাজ) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার উপকূলের গভীর সাগরে। মাঝারি আকারের জাহাজ পাঠানো হয়েছে সাগরের কুতুবদিয়া অংশে।

 

আবহাওয়া অফিস ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত দেখালেই বন্দরের জেটিতে থাকা বড় বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ছোট ছোট জাহাজ, ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলে।

 

কিন্তু কেন?এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন জাহিদুল করিম আকন্দ জানান, ঝড়ে যেখানে তীরের কাছাকাছি থাকতে চায় সবাই, সেখানে বড় জাহাজগুলোকে গভীর সমুদ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

অনেকেই মনে করতে পারেন সেখানে জাহাজগুলো ঝড়ের কবলে পড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। আসলে তা ঘটে না। মূলত জাহাজ ও বন্দরের নিরাপত্তা ও ক্ষতি কমানোর জন্য জন্যই বিভিন্ন দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজটি করে থাকেন।

 

আর এটা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত একটি নিয়ম।অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন জাহিদুল করিম বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ে গতিপথের অঞ্চল ছাড়া সাধারণত গভীর সমুদ্রের চাইতে তীরবর্তী অঞ্চলের পানি বেশি ঝঞ্জাক্ষুব্ধ হয়।

 

এত বড় জাহাজগুলো জেটিতে বাঁধা থাকলে প্রচণ্ড ঝড়ে একটি আরেকটির ওপর আছড়ে পড়ে বা ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। শুধু জাহাজই নয়, শক্তিশালী এই ধাক্কায় বন্দরেরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

 

এছাড়া বন্দরের চ্যানেলে যদি কোনো জাহাজ ডুবে যায় তবে বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এজন্য আন্তর্জাতিক মেরিটাইম স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী ল্যান্ড লক এরিয়া বা প্রাকৃতিকভাবে বেষ্টিত সুরক্ষিত নৌবন্দর না থাকলে বিশ্বের সর্বত্রই ঝড়ের সময় বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া।

 

আর তুলনামূলক মাঝারি ও ছোট জাহাজ ও জলযানকে তীরের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়।’সাবেক নৌকর্মকর্তা জাহিদুল করিম আকন্দ আরো জানান, বিশ্বের সকল পণ্য পরিবাহী বড় জাহাজেই দুটি ইঞ্জিন কার্যকর থাকে।

 

দুই ইঞ্জিন চালিয়ে অনেক বড় বড় ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাহাজ চলতে পারে। আর ঝড়ের সময়ে জাহাজকে একটি বিশেষ কৌশলে নির্দিষ্ট গতিতে চালিয়ে ভারসাম্য ঠিক রাখেন নাবিকরা। আর এতে ঝড়ের সময়ে বন্দরের চাইতে গভীর সমুদ্রেই নিরাপদে থাকে বড় জাহাজগুলো।