প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানীতে যানবাহনের চলাচল বাড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে গত তিন দিন ঢাকার সড়কে সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। সোম ও মঙ্গলবারের তুলনায় গতকাল যানজট কিছুটা কম থাকলেও অধিকাংশ সড়কেই গাড়ি চলেছে ধীরে।

 

২০ মিনিটের পথ যেতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগেছে গতকালও। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে রাজধানীর সড়কে যানজটের এই চিত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

 

গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ দেখা গেছে সড়কে। এ ছাড়া নগরীর প্রধান সড়কগুলোতেও চলতে যত্রতত্র চলা অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো যানজটের কারণ হচ্ছে।

 

তবে পুলিশ বলছে, নগরীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে কড়াকড়ি আরোপের কারণে যানবাহনগুলো বাধা পাচ্ছে। আর এতেই দেখা দিয়েছে যানজট। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মূলত ঈদ সামনে রেখে একেবারেই পুরনো চেহারায় ফিরেছে রাজধানী।

 

দোকানপাট খুলে দেওয়ার পর থেকেই মানুষ বাইরে বের হতে শুরু করেছে। অনেকেই করোনাকে গুরুত্ব না দিয়ে কেনাকাটা করতে মার্কেটে চলে যাচ্ছেন।

 

শুধু গণপরিবহন ছাড়া সব গাড়ি চলছে। অন্য সময়গুলোতে রাজধানীর যানজটের জন্য গণপরিবহনকে দায়ী করা হলেও করোনাভাইরাস সে ধারণা বদলে দিয়েছে।

 

এক মাসের মধ্যে গত তিন দিন ঢাকায় ছিল নজিরবিহীন যানজট। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, বাবুবাজার, গুলিস্তান, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, বনানী, মিরপুর, গাবতলী ও উত্তরা এলাকায় প্রচ- যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল।

 

সোম ও মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়। এ সড়কে গতকালও যানজট ছিল দীর্ঘ সময়। ১০ মিনিটেরও কম সময়ের এই পথ যেতে লেগেছে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত।

 

এ সময় এই সড়কে যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকারচালক আবদুস সাত্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিকালে স্যার (গাড়ির মালিক) বাড়ি যাবেন বলেছেন, এ জন্য গ্যাস আনতে বের হয়েছি।

 

প্রায় এক ঘণ্টায়ও ১০ মিনিটের পথ যেতে পারলাম না।’ মঙ্গলবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে ছিল ভয়াবহ যানজট, যা লকডাউন পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগেও দেখা যায়নি।

 

গাবতলী এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরবাইকের দখলে রয়েছে এ এলাকার সড়ক।

 

তিনি বলেন, অধিকাংশ গাড়ির যাত্রীরাই গ্রামে যাচ্ছেন। চেকপোস্টে পুলিশ অনেককে আটকানোর চেষ্টা করায় এ এলাকায় বেশি যানজট সৃষ্টি হয়েছে।ঢাকার যানজট সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আবদুর রাজ্জাক প্রথমবার্তাকে বলেন, হঠাৎ করেই গ্রামের দিকে যাওয়া মানুষের চাপ বেড়ে গেছে।

 

অনাকাক্সিক্ষত কেউ যেন রাজধানীর বাইরে যেতে না পারে সে জন্য পয়েন্টগুলোতে (ইন-আউট) পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই যানবাহনগুলোকে ইউটার্ন নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

 

 

একই সঙ্গে চেকপোস্টগুলোতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হচ্ছেন অনেকে। ফলে অনেক সময় কিছুটা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীর সড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব রিকশা অবাধে চলাচল করলে দুর্ঘটনা বাড়বে। তাই অবৈধ এসব রিকশা চলাচল বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’