প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  সারা বছরের চেয়ে রমজানে টুপির চাহিদা বেশি। প্রতিবছর এ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন টুপি তৈরির কারিগররা। এখানকার টুপি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়। এতে দামও মেলে আশানুরূপ। টুপি বেচে ঈদের নতুন পোশাক, প্রসাধনীসহ সৌখিন সামগ্রী কেনেন তারা।

 

কিন্ত করোনার থাবায় এবারই তার ব্যতিক্রম। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। কিন্ত বিক্রি হচ্ছে না টুপি। তাই ফিকে হয়ে যাচ্ছে কাগিগরদের ঈদের আনন্দ।সরেজমিন বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ক্রুশ কাটায় টুপি তৈরির নারী কারিগরদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

 

জানা গেছে, স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে ঘরের কোনো নারীই বসে নেই। সবাই টুপি তৈরি করছেন। ঘরের কাজ শেষে শুরু করেন টুপি তৈরির কাজে। ক্রুশের মাথায় সুতা লাগিয়ে হাতের আঙুলের মারপ্যাঁচে স্বপ্ন বুননে কাটিয়ে দেন প্রতিটি দিন। এভাবে দিনে অন্তত ৮-১০টি বাহারি ডিজাইনের টুপি তৈরি করেন।

 

এর মধ্যে রয়েছে বড়ই ফুল, নব্বই ফুল, মাছের কাঁটা, দশফুল, বিস্কুট ফুল, জি, স্টার, কদমফুল, মাকড়সা, ফ্যান ফুল, রাজু বুটা, আনারস। তবে গাছ ফুল ডিজাইনের জাল টুপির কদর বেশি।উপজেলার সব গ্রামেই কমবেশি বাণিজ্যিকভাবে টুপি তৈরি করা হচ্ছে। এ পেশার সঙ্গে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যুক্ত থাকেন।

 

যাদের মধ্যে সিংহভাগই নারী। তবে প্রত্যেক বছর রমজানে এ সংখ্যা বেড়ে যায়। গ্রামেগুলোতে সুতাসহ টুপি তৈরির সবধরনের উপকরণ পৌঁছে দেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। টুপি তৈরি শেষ হলে তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সুতার দাম বাদ দিয়ে পাইকারি বাজারদর অনুযায়ী সেই টুপিগুলো কিনে নেন।

 

এসব জালি টুপি দেশের বাজরে চাহিদা মিটিয়ে সৌদি আরব, দুবাই, কাতার, পাকিস্থান, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এ বছর করোনার কারনে বিদেশে টুপি রপ্তানি হচ্ছে না। ফলে টুপির চাহিদা কমে যাওয়ায় সমস্য সংকটে পড়েছেন কারিগররা। আর্থিক সংকটে তাদের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

 

টুপি তৈরির কারিগররা জানান, লেখাপড়ার ফাঁকে, গল্প করতে বসে কিংবা সাংসারিক কাজের ফাঁকে টুপি বুননো যায়। শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়ার ও বিনোদনখরচ যোগাতে পারেন। একজন গৃহিণী তার অর্জিত আয় দিয়ে সংসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যান্য কাজের ফাঁকে একজন নারী প্রতিমাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

 

কিন্ত এবার করোনার কারণে উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।  টুপির পাইকারি ব্যবসায়ী আসাদুল হক বলেন, প্রতিবছর এ সময় গ্রামের নারীদের তৈরি জালি টুপি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্ত এবার করোনায় লকডাউনের কারণে ঢাকার মোকামে টুপি বিক্রি কিংবা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না।

 

চাহিদা কমে যাওয়ায় কারিগরদের নিকট থেকে বেশি টুপি ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কারিগরদের তৈরি টুপি ঘরেই পড়ে থাকছে।