প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  করোনার চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারে কোনো লাভ তো হচ্ছেই না উল্টো বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। কোভিড নাইনটিনের ওষুধ নিয়ে এযাবৎকালের অন্যতম বড় গবেষণা হার্ভার্ড গবেষকরা বলছেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতার পক্ষে বিন্দুমাত্র প্রমাণ নেই, তাই করোনা রোগীদের জন্য এ ওষুধ ব্যবহার বন্ধের পরামর্শ গবেষকদের।

 

শুরু থেকেই করোনার চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধকে ‘গেম চেঞ্জার’ দাবি করছে একটি মহল, যার নেতৃত্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প।  এমনকি তিনি নিজেও খাচ্ছেন হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন।এমন মাতামাতিতে বিশ্বজুড়েই, বেড়েছে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের চাহিদা।

 

কিন্তু, হার্ভার্ডের গবেষণা বলছে, পুরো বিষয়টি অর্থহীন। ম্যালেরিয়ার ওষুধ ব্যবহারে কোনো লাভই হয়নি করোনা রোগীদের। উল্টো যাদের এসব ওষুধ দেয়া হয়েছে, তাদেরই মৃত্যুঝুঁকি বেশি।হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক মানদিপ মেহরা বলেন, “আমাদের খুব সাধারণ প্রশ্ন ছিলো, হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীরা লাভবান হচ্ছে কিনা?

 

খুব সুনির্দিষ্টভাবে নেতিবাচক উত্তর পেয়েছি। ওষুধের কার্যকারিতার পক্ষে একবিন্দু প্রমাণও মেলেনি। এরপর দ্বিতীয় প্রশ্নে যাই- লাভ তো হচ্ছে না, কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি?

 

অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তর পেয়েছি- হ্যাঁ।”৬৭১ হাসপাতালে ভর্তি, ৯৬ হাজার করোনা রোগীর তথ্য নিয়ে শুক্রবার শীর্ষ মেডিকেল সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এ গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, যাদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দেয়া হয়নি, তুলনামূলক ভালো আছেন তারাই।

 

এরআগে, সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ না থাকায় করোনা চিকিৎসায়, পরীক্ষামূলকভাবে বেশকয়েকটি প্রতিষেধকের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষতিকর প্রভাব থাকায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

 

মানদিপ মেহরা বলেন, “চিকিৎসকরা করোনা রোগীদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা ক্লোরোকুইনের যেকোনো একটি দিচ্ছিলেন। এটি প্রয়োগ করা হচ্ছিলো, অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে।

 

আমাদের তথ্য বলছে, যারা বেঁচে গেছেন, তাদের এক-তৃতীয়াংশের হৃদযন্ত্রেই নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে।”এ গবেষণার পর, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে খোদ হোয়াইট হাউজও।

 

করোনাভাইরাস বিষয়ক সমন্বয়ক, হোয়াইট হাউজের করোনাভাইরাস বিষয়ক সমন্বয়ক ড. ডেবোরা বার্ক্স বলেন, “এতো বিপুলসংখ্যক মানুষের ওপর গবেষণাটি হওয়ায়, নিঃসন্দেহে এর বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি।

 

চিকিৎসকরা তো আগেই বলেছেন, হৃদরোগে ভোগা আর স্থূলকায় করোনা রোগীদের ওপর এসব ওষুধের প্রতিক্রিয়া মারাত্মক।”হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সমর্থকদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তির পর কার্যকারিতা কম হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, কেবল করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়েই কাজ করে এটি।