প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনীহা কারো অজানা নয়৷ এবার তিনি এক আন্তর্জাতিক সামরিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে রাশিয়ার সমালোচনার পাত্র হয়েছেন৷

 

জার্মানিও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে। খবর ডয়চে ভেলে’র।গোটা বিশ্বে করোনা সংকটের মাঝে যুদ্ধ নিয়ে ভাবার সময় থাকার কথা নয়৷ কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে এমন এক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন, যার ফলে এখনই কোনো যুদ্ধ শুরু না হলেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে৷

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত আন্তর্জাতিক সামরিক চুক্তি উপেক্ষা করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বিপজ্জনক পথে অগ্রসর হচ্ছেন৷

 

‘ওপেন স্কাইস ট্রিটি’ চুক্তির আওতায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলি একে অপরের আকাশসীমার মধ্যে নিরস্ত্র বিমান পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাতে পারে৷ স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থা মজবুত করাই প্রায় তিন দশক আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির লক্ষ্য৷

 

অ্যামেরিকা ও রাশিয়াসহ মোট ৩৪টি দেশ এই কাঠামোর অংশ৷কিন্তু ট্রাম্পের যুক্তি, রাশিয়া এই চুক্তি লঙ্ঘন করায় অ্যামেরিকাও আর এই কাঠামোর অংশ থাকতে চায় না৷

 

উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী রাশিয়া কালিনিনগ্রাড এলাকা, জর্জিয়া সীমান্তসহ কিছু এলাকা এবং রুশ সামরিক মহড়ার সময় আকাশসীমা বন্ধ রেখে ‘ওপেন স্কাইস ট্রিটি’ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে৷

 

ট্রাম্প বলেন, সে দেশ এই চুক্তি না মানলে তিনিও সেটি বর্জন করবেন৷ তবে রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে ভবিষ্যতে বোঝাপড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প৷

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ওয়াশিংটন শুক্রবারই চুক্তি ত্যাগের নোটিশ পেশ করতে চলেছে৷ ছয় মাস পর অ্যামেরিকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে৷

 

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই প্রসঙ্গে শীতল যুদ্ধের সময়কার ‘সেকেলে’ বোঝাপড়া সম্পর্কে অবজ্ঞা দেখিয়েছেন৷ তাঁদের মতে, অন্যরা এমন সব চুক্তি না মানায় অ্যামেরিকার জাতীয় স্বার্থ আর রক্ষা করা যাচ্ছে না৷

 

তাই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে৷ একমাত্র এভাবেই গোটা বিশ্বকে নিরাপদ রাখা সম্ভব৷রাশিয়া অ্যামেরিকার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে৷

 

মস্কোর মতে, ‘ভিত্তিহীন’ কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটন এমন বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে৷ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির ইয়েরমাকাভ বলেন, তাঁর দেশ মোটেই এই চুক্তি লঙ্ঘন করেনি৷

 

তাঁর মতে, অ্যামেরিকা এর আগেও রাশিয়া সম্পর্কে মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ত্যাগ করেছে৷ উল্লেখ্য, অ্যামেরিকা দুই বছর আগে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ত্যাগ করেছিল৷

 

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস-ও ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ তাঁর মতে, এই চুক্তি ইউরোপের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ এটি গোটা উত্তর গোলার্ধে নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে অবদান রেখে চলেছে৷

 

মাস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়ায় এই চুক্তির বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে বটে, কিন্তু সেই কারণ চুক্তি ত্যাগ করার জন্য যথেষ্ট নয়৷ তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে এই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান জানান৷ উল্লেখ্য, শুধু অ্যামেরিকা নয়, ন্যাটোর কিছু দেশ এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার আচরণের সমালোচনা করেছে৷ শুক্রবারই উত্তর অ্যাটলান্টিক পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবার কথা।