প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা ভাইরাসের (কভিড-১৯) কার্যকরী টিকা তৈরির প্রতিযোগিতা। ভাইরাসটিতে অচল হয়ে পড়া অর্থনীতি সচল করতে টিকা বা ওষুধের ব্যতিক্রম নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যেই চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকস ইনকরপোরেশন জানিয়েছে, তাদের টিকাটি প্রথমবার মানবদেহে পরীক্ষায় নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে।

 

একইসঙ্গে এটি প্রয়োগে মানুষের শরীরে দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু হয় বলে শুক্রবার মেডিক্যাল সাময়িকী ল্যান্সেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ক্যানসিনোর গবেষকরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, ক্যানসিনোর এডি৫-এনসিওভি নামক টিকাটি মানবদেহে প্রয়োগের জন্য নিরাপদ হলেও, করোনা প্রতিরোধে কার্যকর কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

 

১০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপর এই টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর এটি নিরাপদ বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। ওই ব্যক্তিদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগের রক্তের মধ্যেই ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয়কারী অ্যান্টিবডি ও টি-সেল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে টিকাটি ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে কার্যকর কিনা তা নিশ্চিতে আরো গবেষণা করতে হবে।

 

ওই পরীক্ষার এক সহকারী গবেষক ও বেইজিং ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক ওয়েই চেন বলেন, এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলস্টোনের প্রতিনিধিত্ব করে।এই পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই টিকার একটি ডোজ ১৪ দিনের মধ্যে ভাইরাসটির জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি ও টি-সেল তৈরি করতে সক্ষম।

 

এই ফলাফল এটিকে করোনার চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য একটি সম্ভাব্য টিকায় পরিণত করেছে। এ বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।তবে চেন এও বলেন যে, টিকাটির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালুর মানে এই না যে, এটি মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। টিকাটি সর্বজনীন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে অনেক সময় লাগবে।

 

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে করোনার চিকিৎসার জন্য শতাধিক টিকা তৈরিতে কাজ করছেন অসংখ্য বিজ্ঞানী। এর মধ্যে ১২টি টিকার মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।