প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেল লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে শুক্রবার একদিনেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

 

মারা গেছেন অন্তত ১ হাজার।এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে ইউরোপে আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে থাকা রাশিয়ায় একদিনে আরও প্রায় ৯ হাজার শনাক্ত হলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।

 

গেল ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ব্রাজিলে প্রথমবারের মতো একজনের শরীরে শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস। এরপর থেকেই দেশটিতে কোভিড শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও সেসময় ভাইরাসটি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর উদাসীন মনোভাব ও বিতর্কিত মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে পুরো ব্রাজিলে।

 

অথচ প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে সেই ব্রাজিলই এখন আক্রান্তের দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেছে পুরো ইউরোপকে।সম্প্রতি ব্রাজিলের অর্থনীতি চাঙা রাখার স্বার্থে লকডাউন কিছুটা শিথিল করায় সমাজের নানা শ্রেণিপেশার মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে সমালোচনারও শিকার হন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো।

 

দেশটিতে এরইমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার ছাড়ালেও প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।তারা বলছেন, আমাদের সামনে হয়তো আরও অনেক মৃত্যু দেখতে হবে।

 

এখানে সম্প্রতি একটি অস্থায়ী হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। যেখানে রোগীর সংখ্যা এরইমধ্যে ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।এরমধ্যেই সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে দেশটির জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে তাদের অপসারণে একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো।

 

মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকের ভিডিও নিয়ে এরইমধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।অন্যদিকে রাশিয়ায় আক্রান্তের হার এখনও ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ হলেও দেশটির করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

 

শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। মস্কোতে দৈনিক আক্রান্তের হার কমেছে। এমনকি অন্যান্য অঞ্চলেও।

 

তবে এটা ঠিক পরিস্থিতি উন্নতির এই হার এখনও ইতিবাচক নয় যতোটা আমরা আশা করেছিলাম তবুও উন্নতি হচ্ছে এটাই মুখ্য।এদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়ায় মাঠে নেমেছে সামরিক বাহিনী। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে চালু করা হয়েছে অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল।