প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  মিসরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হ্ওয়ার পর কমপক্ষে দশজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।মিসরের একটি স্থানীয় মানবাধিকার গ্রুপ এ কথা জানিয়েছে। আরব নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস ইনফরমেশন নামের মানবাধিকার গ্রুপ মিসরীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে।

 

গ্রুপটির অভিযোগ, করোনা মহামারি ইস্যুতে সৃষ্ট মতবিরোধের (ভিন্ন মত) রূখতে অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার গ্রুপটি জানায়, মিসরীয় কারাগারে স্বাস্থ্য ব্যস্থার অবনতি ঘটেছে।বন্দীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেনা, বিশেষত যারা দীর্ঘ মেয়াদে রোগে ভুগছেন।

 

এ বিষয়ে মিসরীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাডি হাবশের প্রসঙ্গ  উল্লেখ করেছে মানবাধিকার গ্রুপটি। তিনি দুই বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে আটক ছিলেন। চলতি মাসে তিনি হঠাৎ মারা যান। মানবাধিকার গ্রুপটির অভিযোগ, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময় সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার।

 

শুধু তাই নয়, কারাবন্দিদের পরিবারকে কারা পরিদর্শন বন্ধ করেছে।বন্দিদের এবং তাদের আত্মীয়দের মধ্যে কোনও ধরনের যোগাযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না। গত রবিবার মাদা মাসর ওয়েবসাইটের এডিটর-ইন-চিফ লীনা আটাল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনী। একটি সাক্ষাত্কার গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি আটক হন।

 

পরে জরিমানা গ্রহণ করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।এই সপ্তাহে সামেম হানিন নামে এক সাংবাদিক এবং ফটোগ্রাফারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে সহায়তা করা’র অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হানিন একজন ধর্মনিরপেক্ষ খ্রিস্টান।

 

তিনি কৌতুক অভিনেতা থোলথী আদওয়া আল মাসরাহকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরী করেছিলেন।তিনি এটি আল-জাজিরার কাছে বিক্রি করেছিলেন। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের তদন্ত করতে তাকে ১৫ দিনের জন্য কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মানবাধিকার গ্রুপটি এ কথা জানিয়েছে।

 

এদিকে, এসব বিষয়ে মিসরীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র : ইয়ানি সাফাক