প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   “আমার নামটা প্রকাশ করবেন না দয়া করে… আমরা চার ভাইবোনের মধ্যে আমি সবার বড়। খুব ছোটবেলা থেকেই আব্বু-আম্মুকে ঝগড়া করতে দেখেছি। আব্বু সবসময় আম্মুর সাথে বাজে ব্যবহার, গালাগালি এমনকি গায়ে হাত তোলাও বাদ দেয় নি, এবং সেটা আমাদের সামনেই। আমার বাবার চরিত্রও খুব খারাপ, অনেকের সাথে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল।

 

 

 

 

এমনকি আমাদের বাসার কাজের মহিলারাও বাদ যায়নি। বাবার এই স্বভাবের কারণে মা লোক রাখা বাদ দিয়ে নিজেই সংসারের সমস্ত কাজ করেন। আর কিছু হলেই আমাদের সাথেও খুব বাজে ব্যাবহার করত, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না, পরে অবশ্য আদর-টাদর করলেও অনেক কিছুই ভোলা যেত না। তাই ছোট বেলা থেকেই বাবা সম্পর্কে মনের উপর অনেক বিরুপ প্রভাব মনে পড়েছে।

 

 

 

 

আর একটা কথা আমার বাবা সিধান্ত নিজেই নেন, অন্য মানুষ কী বলল সেটা নিয়ে খুব মাথা ঘামান, পক্ষান্তরে নিজের পরিবারের কথা কানেই তোলেন না, এবং এই স্বভাবের কারণে তার সারা জীবনে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবং তার জন্যই আজ আমরা পথের ফকির হতে বসেছি। তার ভুলের কারণে আজ আমাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার যোগার।

 

 

 

 

 

আমি একটা ছেলেকে ভালবাসি এবং আমাদের দুজনের পরিবারই জানে, ওর পরিবার সব হাসিমুখে মেনে নিলেও আমার বাবা রাজি না কারণ একটাই আমার পছন্দ তিনি মেনে নিবেন না। ছেলের পরিবার অনেক ভালো, আমাকে যথেষ্ট আদর করে। আমরা চেয়েছিলাম পারিবারিক ভাবে বিয়েটা হোক। এইজন্য আমি অনেক যুদ্ধ করেছি, অনেকবার বুঝিয়ে বলেছি বাবাকে, তিনি কখনই রাজি হননি, উল্টা গালাগালি করেছেন যা একজন বাবা কখনো মেয়েকে বলতে পারে না,

 

 

 

 

আমার খরচ দেয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন বেশ কয়েকবার। আমার পরিবারের সবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করতেন যেন তাদের দিকে চেয়ে আমি সরে আসি, কিন্তু আমি আসিনি। কারণ আমার বাবা চায় আমি এমন একজনকে বিয়ে করি অবশ্যই তার পছন্দে যে আমার বাবার জন্য হেল্পফুল হবে, আমি তার সাথে ভালো থাকবো কিনা, বা মানুষটা ভালো কিনা সেটা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যথা নেই। কারণ তিনি নিজেই একজন স্বৈরাচারী মানুষ, যে নিজেই আমার মাকে এক মুহূর্তের জন্য সুখে রাখেন নি।

 

 

 

 

যাইহোক তাও আশা ছিল কিছুদিন পর হয়ত বাবা রাজি হয়ে যাবেন, সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু সময় চলে যায় আমার বাবার মত পাল্টায় না। তার কথা বিয়ে করলে নিজেরাই করে ফেলতে তার কোন আপত্তি নেই কিন্তু তিনি কোন রকম দায়ভার কিংবা কিছুই করবেন না, তাদের হাতে খালি আমাকে তুলে দিক সেটা অন্তত করতে বলেছিলাম বাবা হিসেবে তিনি সেটা পর্যন্ত করবেন না।

 

 

 

 

ওর বাবা-মা সরাসরি কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি তাদেরকেও আসতে দেননি। সত্যি আপু, একজন বাবা হয়ে তিনি এতটা স্বার্থপর কী করে হয় আমি ভেবে পাইনা, মেয়ের বিয়েতে পর্যন্ত নিজের স্বার্থ খোঁজেন।

 

 

 

 

 

বর্তমানে আমার গ্রাজুয়েশন শেষ হতে কয়েক মাস বাকি। এইদিকে ও জব করছে, আমি ও ইনশাআল্লাহ কিছুদিন পর জব করব, কিন্তু আমি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি, সারাক্ষণই কান্নাকাটি করি। আর পারছিনা আপু। মাঝে মাঝে ভয় লাগে ও যদি আমাকে কখনো কষ্ট দেয়, বা ওর পরিবার আমাকে কখনো খোটা দেয়? যদিও ও অনেক ভালো একজন মানুষ, এবং তার পরিবারের মানুষগুলা ভালো, তাও খুব ভয় লাগে।

 

 

 

 

 

আপু এখন আমাদের কে করা উচিত? আমরা খুব শীঘ্রই নতুন জীবন শুরু করতে চাই, নিজেদের জীবনটা সুন্দর করে সাজাতে চাই। এখন বাবার জন্য আর অপেক্ষা করা কি ঠিক হবে? আপনার যা ভালো মনে হয় বলুন, আমি আপনাদের নিয়মিত পাঠক।”

 

 

 

 

 

পরামর্শ:
খুব খারাপ লাগলো তোমার বাবার কাজকর্ম দেখে। আসলেই, একজন বাবা হয়ে কীভাবে তিনি করতে পারেন এমন? তবে সত্য জানো কি আপু, পৃথিবীতে এমন বাবার কোন অভাব নেই। তাঁদের কাছে সন্তান কেবল জন্ম দিতে হয় বলে দেয়া, ভালোবাসার জন্য না।

 

 

 

 

তুমি যে এত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের ক্যারিয়ার সুন্দরভাবে গুছিয়ে এনেছ, এটার জন্য তোমাকে সাধুবাদ জানাই। এবং তোমার ভাগ্যটি খুব ভালো বলতে হবে যে একজন চমৎকার মানুষ ও তাঁর পরিবারকে পাশে পেয়েছ তুমি যারা সব জেনেও তোমাকে ভালোবাসেন। এমন পরিবার আসলেই দেখা যায় না। হ্যাঁ, আমি জানি তোমার মায়ের পরিণতি দেখে তুমি ভয় পাচ্ছ, এটাই স্বাভাবিক।

 

 

 

 

তবে সবার জীবন তো একরকম হয় না। আমার মনে হয় বাবার অপেক্ষায় না থেকে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত তোমার নিয়ে ফেলা উচিত। বাবা কখনোই রাজি হবেন বলে মনে হয় না, উল্টো তোমার ভালোবাসার মানুষটি কষ্ট পেতে পারেন। সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে প্রেমিকের পরিবারের সম্মতিতে নিজেদের জীবন শুরু করে ফেলো। তারপর যা হয়, দেখা যাবে। আর হ্যাঁ, সম্ভব হলে নিজের আম্মাকে ভালো রাখা জন্য অবশ্যই কোন উদ্যোগ নিও আপু।

 

 

 

 

 

আপু হিসাবে আরেকটি পরামর্শ দিয়ে রাখি, বিয়ে থেকে কখনো খুব বেশী কিছু আশা করবে না। জীবন কোন রূপকথা না। বিয়ের আগে প্রেম যেমন থাকে, বিয়ের পর তার অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে।তুমি বদলে যাবে, তিনি বদলে যাবেন। এটার অর্থ এই নয় যে ভালোবাসা থাকবে না। তবে বয়সের সাথে সাথে ভালোবাসার ধরণ বদলে যায়। প্রেমের বিয়েতে সুখী হওয়াটা সম্পূর্ণই নিজেদের ওপরে নির্ভরশীল। দাম্পত্যকে নিজের ১০০ ভাগ দিও, ভালোবাসার মানুষটিকে মমতায় আগলে রেখ, অলীক স্বপ্ন না দেখে দুজনেই বাস্তব পৃথিবীতে থেকো, নিশ্চয়ই সারা জীবন সুখে থাকতে পারবে।

শুভকামনা তোমাদের জন্য আপু।