প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  “আমাদের arranged marrage হয়েছে। বিয়ে হয়েছে ৪ বছর, ১ বছরের একটা ছেলে ও আছে। arranged marriage হলেও আমি আমার husband -কে অনেক ভালবাসি। আমার বিশ্বাস ছিল সেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু আমার ছেলের জন্মের কিছুদিন পর থেকেই ওর আচার আচরণে আমি পরিবর্তন টের পেলাম। আমার মনে হতে লাগলো সে আমাকে avoid করছে।

 

 

 

 

তার সাথে আমি এই ব্যাপারটা আলাপও করেছি, কিন্তু সে পাত্তাই দিলো না। আমার.বেবী হবার পর থেকেই সে আর আমি আলাদা ঘুমাই। আমাদের আরেকটি ফ্ল্যাট আছে, যেখানে কেউ থাকে না। সে কিছুদিন পর প্রত্যেক বৃহস্পতিবার রাতে ওই বসায় ঘুমানো শুরু করলো এই অজুহাতে যে বেবীর কান্নায় তার ঘুমের disturb হয়। তাই সপ্তাহে একদিন সে ভাল করে ঘুমাতে যায়। আমি অনেক নিষেধ করি, কান্নাকাটি করি কিন্তু সে কিছুই শুনে না। সে যাবেই যাবে।

 

 

 

এতদিন নিজেকে এই পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিয়েছি। কিন্তু কাল ওর ফোন-এর inbox ঘেঁটে দেখলাম একটা unsaved নম্বর থেকে ওর কাছে sms আসে। সেও রিপ্লাই দেয়। sms গুলো এই রকম -তুমি কী করছ ? sleep? I m sick ইত্যাদি।

 

 

 

 

আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম কার sms, সে চিত্কার করা শুরু করলো. কেন তাঁকে না জিজ্ঞেস করে তার ফোন আমি ধরেছি। পরে আমার ননদকে আমি বিষয়টা জানানোতে সে বলে এটা তার একটা নেট friend। তার সাথে সে মাঝেমাঝে sms আদানপ্রদান করে, এর বেশি কিছুই না। সারাদিনে সে আমাকে যেখানে একবারও ফোন বা sms দেয় না, সেখানে friend এর সাথে এত sms দেয়া নেয়া হয়? আমি কিছুতেই ব্যাপারটা মানতে পারছি না, খুব কষ্ট লাগছে।

 

 

 

 

ওর জন্য আমি সব কিছু sacrifice করেছি, mbbs পাস করে ও ঘরে বসে আছি। আপু আমি শুধু ওকেই ভালবেসেছি, তাই এইসব আমি tolerate করতে পারছি না। আমার কী করা উচিত ? আমি কি ওকে trust করব ? আমার সব মানসিক শক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। please আপু আমাকে জানান আমার কী করা উচিত। আমি একটা সুন্দর স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই।”

 

 

 

 

পরামর্শ:
আমি চাইলে আপনাকে সান্ত্বনা সূচক অনেক কিছুই বলতে পারি আপু, যাতে আপনার একটু ভালো লাগে। কিন্তু আমি সেটা বলব না। আমি সেটাই বলবো, যেটা আমার মনে হচ্ছে। আমার বলাটাই যে ঠিক, এমন নাও হতে পারে। তবে আমার যা সন্দেহ হচ্ছে সেটাই বলছি। আমার মনে হচ্ছে আপনার স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছেন। যেটা বাবা হবার পর অনেক পুরুষের মাঝেই দেখা যায়।

 

 

 

 

আপনার চিঠি পড়ে অনেকগুলো প্রশ্ন মনে উঠেছে আমার। আপনাকে বলছি, আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। বাচ্চা হবার পর থেকে তো আপনারা আলাদাই থাকছেন, তাহলে আলাদা ফ্ল্যাটে থাকার দরকারটা কী? আর সন্তান কি কেবল আপনার একার, তাঁর সন্তান নয়? আপনি বাচ্চার কান্না সহ্য করতে পারলে তিনি কেন পারবেন না? পৃথিবীর অন্য পিতারা কি করছেন না?

 

 

 

 

আর তিনি যদি আপনাকে ভালোবেসেই থাকবেন, তাহলে আপনার কান্নাকাটি সত্ত্বেও তিনি ফ্ল্যাটে যান কেন? কী আছে সেখানে যেটা আপনার চাইতে প্রিয়? মানুষ কখনোই নিজের ভালোবাসার মানুষকে কাঁদিয়ে নিজের জন্য সুখ খুঁজে নিতে পারেন না। অন্তত আমার তাই মনে হয়। এছাড়াও, আপনার ননদ যে নেট ফ্রেন্ড বলে আপনাকে সান্ত্বনা দিয়েছে, সেটাও পরিষ্কার। একজন ফ্রেন্ড, যার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়, তাঁর নম্বর আনসেভড থাকবে কেন? এত লুকোচুরি কীসের? আর আপনি জিজ্ঞেস করায় তিনি চিৎকার করবেন কেন? উল্টো তো তাঁর আপনাকে বুঝিয়ে বলার কথা যে মানুষটি কে।

 

 

 

 

অন্তত তিনি আপনাকে ভালোবেসে থাকলে তেমনটাই হবার কথা। এমনও হতে পারে যে মেয়েটি তাঁর প্রাক্তন জীবনের কেউ আর আপনার ননদ সেটা জানেন। তাছাড়া বাচ্চার বয়স ১ বছর হয়ে গেছে। এখন তো আর বাচ্চা আগের মত বিরক্ত করে না। এখন কেন আলাদা থাকেন স্বামী?

 

 

 

 

 

বাবা হবার সময় স্ত্রীর সাথে শারীরিক দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়, অনেক পুরুষই স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন। এটা বোঝার চেষ্টা করেন না যে স্ত্রীর সৌন্দর্য হানি হয়েছে তাঁর সন্তানকে জন্ম দিতে গিয়েই। বা এটাও বোঝেন না যে স্ত্রীর ওপর দিয়ে কী পরিমাণ ঝড়ঝাপটা যাচ্ছে। উল্টো তাঁরা পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে যান। আপনিও একটা ভুল করেছেন আপু নিজের ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়ে।

 

 

 

 

একটা এমবিবিএস পাশ মেয়ে কেন ঘরে বসে থাকবে? মেধার এত অপচয় কেন করবে? তাছাড়া স্ত্রী ঘরে বসে থাকলে অনেক পুরুষ ধরেই নেন যে স্ত্রী তো আছেই, সে কোথায় যাবে! ফলে স্ত্রীর দিকে মনযোগ দেয়ার আগ্রহ তাঁদের থাকে না। ভালবাসলে ক্যারিয়ার ত্যাগ করতে হবে, এটা কোন কথাই না।

 

 

 

 

এখন আপু আপনি যা করবেন, চিৎকার চেঁচামেচি করে কোন লাভ হবে না। উল্টো পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। যা করতে হবে ঠাণ্ডা মাথায়। এই সপ্তাহে যখন তিনি সেই ফ্ল্যাটে চলে যাবেন বা যেতে চাইবে, তাঁকে বাঁধা দিন। বলুন না যেতে। যদি রাজি না হন, তাহলে বলুন এই সপ্তাহের মত না যেতে, তিনি যেন সামনের সপ্তাহে যান। তাতেও যদি তিনি রাজি না হন, তাহলে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন যে তিনি কী চান। আপনি তাঁকে বলুন যে আপনি তাঁকে অনেক ভালোবাসেন, কিন্তু আপনার সন্দেহ হচ্ছে যে তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছেন।

 

 

 

 

এবং তিনি যদি ওই ফ্ল্যাটে যাওয়া বন্ধ না করেন, আপনি বাচ্চাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যাবেন। বাড়িতেই তিনি আলাদা কামরায় ঘুমালে তো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে না। তিনি সেটাই করতে পারেন। কিন্তু ওই ফ্ল্যাটে যাওয়া চলবে না। তাঁকেই ডিসিশন নিতে দিন, সে ওই ফ্ল্যাট চায় নাকি স্ত্রী-সন্তান চায়। ভুল করেও রাগারাগি চেঁচামেচি করবেন না। তাঁকে জানিয়ে দিন যে এভাবে নিঃসঙ্গ জীবন যাপনে আর অবহেলায় আপনি হাঁপিয়ে উঠেছেন।

 

 

 

 

 

স্বামী যদি আপনার কথা শুনে ফ্ল্যাটে যাওয়া বন্ধ করে, তাহলে বুঝবেন আশার আলো আছে। আপনাদের জন্য তাঁর মমতা আছে আর তাঁর পরকীয়া হয়ে থাকলেও সেটা খুব বেশী গভীর নয়। ইন দিস কেস, স্বামীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সবরকম চেষ্টা করুন। সারাক্ষণ বাচ্চা বাচ্চা করবেন না বা বাচ্চা বিষয়ে কথা বলবেন না। আগের মত হয়ে উঠতে চেষ্টা করুন।

 

 

 

 

মেজাজ করবেন না, রাগ দেখাবেন না। বরং বেশী বেশী করে দেখান যে আপনি তাঁকে কত ভালবাসেন। নিজেকে একটু সাজি গুছিয়ে টিপটপ রাখুন, দেখবেন আত্ম বিশ্বাস ফিরে আসছে। সম্ভব হলে বাচ্চা ননদের কাছে রেখে বা মায়ের বাড়িতে রেখে কেবল আপনারা দুজনে কোথাও বেড়াতে যান কোন মিষ্টি সন্ধ্যায়। আর বাচ্চাকেও আস্তে আস্তে স্বামীর ঘনিষ্ঠ করে তুলুন। যেন বাচ্চার প্রতি টান থেকেও সংসারে মন থাকে।

 

 

 

 

 

আর স্বামী যদি আপনার কথা না শুনে এতকিছুর পরও ফ্ল্যাটেই যান, আপনার ফ্ল্যাটের মাঝে ফ্ল্যাটকে বেছে নেন, তাহলে কী করতে হবে সেটা তো আপনি জানেন আপু।