প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :পিরোজপুরের কাউখালীতে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় পারভেজ মহাজন (৪০) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে।

 

নিহত ওই স্কুলছাত্রীর মা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসেরকাঠি গ্রামের খাল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত হত্যাকারী পারভেজ মহাজনের বড় ভাই সোহেল মহাজনকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযুক্ত হত্যাকারী পারভেজ একই গ্রামের ফোরকান মহাজনের বখাটে ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রী তার বড় বোনকে নিয়ে সোমবার দুপুরের পর বৈশাখী ঝড়বৃষ্টি শেষে পাশের বাড়ির বাগানে আম কুড়াতে যায়। বড় বোন বৃষ্টিতে ভিজে গেলে আগে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু ওই স্কুলছাত্রী আম বাগানে আম কুড়াতে ব্যস্ত থাকে। পরে মেয়েটি বাসায় ফেরার পথে দাশেরকাঠী খালের সেতুর কাছে পৌঁছালে একই গ্রামের ফোরকান মহাজনের ছেলে বখাটে পারভেজ মহাজন শিশুটিকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ওই ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে শিশুটির লাশ দাশেরকাঠী খালে ফেলে পালিয়ে যায়।

এদিকে, মেয়ে সন্ধ্যা অবধি বাড়িতে না ফেরায় গ্রামে খোঁজ নেন তার মা। না পেয়ে রাতে শিশুটির মা-বাবা থানায় মেয়ে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ দাশেরকাঠী খাল থেকে ওই ছাত্রীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে বখাটে পারভেজ মহাজন ও তার বড় ভাই সোহেল মহাজনকে আসামি কাউখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

কাউখালী থানার ‌ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তা আজ মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মা বাদী হয়ে দুই সহোদরকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত পারভেজ ঘটনার পর থেকে পলাতক। তবে অপর আসামি তার ভাই সোহেল মহাজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।